জেলে আমার সেল, বাথরুমে ক্যামেরা লাগানো ছিল, বিস্ফোরক মারিয়ম নওয়াজ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানে এই মুহূর্তে ইমরান খান বিরোধী বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান মুখ তিনি। রাজনৈতিক মহল তাঁকে পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের যোগ্য উত্তরসুরী বলে মনে করছেন। এহেন মারিয়ম নওয়াজ ফের একবার বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে। বললেন, জেলে থাকাকালীন তাঁর সেল ও বাথরুমে ক্যামেরা লাগিয়ে রাখা হয়েছিল।

পাকিস্তান মুসলিম লিগ নওয়াজের সহ-সভাপতি মারিয়ম নওয়াজ শরিফ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই কথা বলেন তিনি। জিও নিউজ সূত্রে খবর, গত বছর চৌধরী সুগার মিল মামলায় জেলে গিয়েছিলেন মারিয়ম। সেই সময়েই তাঁর সঙ্গে এই ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

মারিয়ম বলেছেন, “আমি দু’বার জেলে গিয়েছি। একজন মহিলা হিসেবে জেলে আমার সঙ্গে কীরকম ব্যবহার করা হয়েছে সেটা যদি আমি বলি তাহলে ওদের (পড়ুন ইমরান খান সরকার) মুখ দেখানোর জায়গা থাকবে না। জেলে আমার সেলে ক্যামেরা লাগানো ছিল। এমনকি আমার বাথরুমেও ক্যামেরা ছিল। কোনও জেলবন্দির সঙ্গেই এই ব্যবহার করা যায় না।”

নিজের বক্তব্যে মারিয়ম আরও জানিয়েছেন, পাকিস্তান মুসলিম লিগ নওয়াজের সহ-সভাপতি হওয়ার পরেও যেভাবে ঘরে ঢুকে তাঁর বাবার সামনে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে ও হেনস্থা করা হয়েছে, তাতে এটা প্রমাণিত, পাকিস্তানের কোনও মহিলা সুরক্ষিত নন। যদিও মহিলারা দুর্বল নন বলেই জানিয়েছেন মারিয়ম। একজন মহিলা কী করতে পারেন, তার প্রমাণ পাকিস্তান সরকার পাবে বলেই দাবি তাঁর।

জিও নিউজ সূত্রে খবর, মারিয়ম জানিয়েছেন মিলিটারির সঙ্গে আলোচনা করতে রাজি তাঁর দল। সংবিধানের অধীনে থেকে সরকার পদক্ষেপ নিতেই পারে। কিন্তু গোপনে কিছু করা চলবে না। যা করতে হবে প্রকাশ্যে করতে হবে। পাকিস্তান ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্টের মধ্যে দিয়ে তাঁদের দাবি তাঁরা মানুষের সামনে তুলে ধরবেন বলেই জানিয়েছেন নওয়াজ শরিফ কন্যা।

গত বছর আর্থিক দুর্নীতির মামলায় মারিয়ম নওয়াজকে গ্রেফতার করে ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো। ২০০৮ সালে চৌধরী সুগার মিল থেকে মারিয়মের অ্যাকাউন্টে ৫০ হাজার কোটি টাকা পাঠানো হয় বলে অভিযোগ। ২০১০ সালে আবার সেই টাকা ইউসুফ আব্বাস শরিফের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হয় বলে অভিযোগ করে তদন্তকারী সংস্থা। যদিও বেআইনিভাবে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন মারিয়ম। শুধু তাই নয়, জেলে তাঁর সঙ্গে কীরকম ব্যবহার করা হয়েছিল সেই ছবিও তুলে ধরেছেন তিনি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More