“এই রক্তাক্ত দিন তোমাদের উপহার দিলাম”, হামলার দায় স্বীকারের পর শ্রীলঙ্কাবাসীকে বার্তা আইসিস-এর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২১ এপ্রিল রবিবার পরপর ৮টি বিস্ফোরণে কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো। ঘটনার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পার হওয়ার পর দায় স্বীকার করেছে আইসিস। ভিডিও প্রকাশ করে জানিয়েছে, এই রক্তাক্ত দিন শ্রীলঙ্কাবাসীকে উপহার দিয়েছে তারা।

কলম্বোর বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন প্রায় ৩০০ জন। আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫০০। প্রতিবেশী দেশে নিহত হয়েছেন ১০ জন ভারতীয়ও। প্রাথমিক ভাবে শ্রীলঙ্কা প্রশাসনের অনুমান ছিল এই হামলার পিছনে রয়েছে স্থানীয় ইসলামি জঙ্গি সংগঠন ন্যাশনাল তৌহিত জামাত (এনটিজে)। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইসিস-এর সঙ্গে এর যোগ রয়েছে বলেও জানায় শ্রীলঙ্কার গোয়েন্দা বিভাগ। শেষ পর্যন্ত কলম্বো বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট অফ সিরিয়া অ্যান্ড ইরান বা আইসিস।

আইসিস-এর নিজস্ব নিউজ পোর্টাল ‘আমাক’-এ হামলার দায় স্বীকার করেছে তারা। জানিয়েছে, নিউজিল্যান্ডের দু’টি মসজিদ জঙ্গি হানার বদলা নিতেই শ্রীলঙ্কায় হামলা চালিয়েছে তাদের সংগঠন। নিউজিল্যান্ডের ওই জঙ্গি হামলায় নিহত হয়েছিলেন অন্তত ৫০ জন মুসলিম। আইসিস-এর দাবি, এই ৫০ জন মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই কলম্বোতে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে তারা। news.com-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘আমাক’ চ্যানেলের টেলিগ্রাম অ্যাপে একটি ভিডিও আপলোড করেছে আইসিস। অনুমান, ‘আল গুরাবা’ মিডিয়ার তরফে এই ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে দুই জঙ্গিকে শ্রীলঙ্কাবাসীর উদ্দেশে বলতে শোনা গিয়েছে, “এই রক্তাক্ত দিন তোমাদের উপহার দিলাম।“

আইসিস এই হামলার দায় স্বীকার করার পরেই প্রকাশ্যে এসেছে বেশ কয়েকটি নাম। আবু উবাদিয়া, আবুল বররা এবং আবুল মুখতার—–এই তিন জঙ্গিই ইস্টার সানডে’র হামলায় যুক্ত ছিল বলে অনুমান করছে কলম্বো পুলিশ। এদের মধ্যে আবু উবাদিয়া আবার জাহরান হাসিন নামেও পরিচিত। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, শ্রীলঙ্কার স্থানীয় ইসলামি জঙ্গি সংগঠন এনটিজে-র সঙ্গেও যুক্ত ছিল এই আবু উবাদিয়া ওরফে জাহরান হাসিন।

শ্রীলঙ্কার ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ১০ দিন আগে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন কলম্বো-র পুলিশ প্রধান জয়সুন্দরা। একটি রিপোর্টে তিনি জানান, ন্যাশনাল তৌহিত জামাত (এনটিজে) নামের একটি স্থানীয় ইসলামি জঙ্গি সংগঠন বড়সড় হামলার ছক কষছে। কয়েক বছর আগে বিভিন্ন বৌদ্ধ মূর্তি ধ্বংসের পিছনেও এই এনটিজে-ই ছিল বলে জানান ওই পুলিশকর্তা। কিন্তু তার পরেও কেন উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More