পাঁচতলার রেলিং গলে পড়ে যাচ্ছে একরত্তি ছেলে, মুহূর্তেই ঝাঁপিয়ে পড়লেন মা! তারপর…..

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লিফট থেকে মায়ের হাত ধরে বেরিয়েছিল একরত্তি ছেলে। তারপর মায়ের সামান্য ব্যস্ততার মধ্যেই পাশের রেলিংয়ের দিকে এগিয়ে যায় সে। হঠাৎ করেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিংয়ের ফাঁক গলে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয় বাচ্চার। হঠাৎ করেই ঝাঁপিয়ে পড়লেন মা। ততক্ষণে রেলিং দিয়ে গলে গিয়েছে বাচ্চা। কিন্তু তারমধ্যেও বাচ্চার পা ধরলেন তিনি। তারপর টেনে তুললেন তাকে। আর এই ভিডিয়োও প্রশংসা কুড়িয়েছে নেট দুনিয়ার।

সম্প্রতি এই ঘটনা ঘটেছে কলম্বিয়ার মেডেলিন-এ। বুধবার সেখানকার একটি বিল্ডিংয়ের পাঁচতলায় মায়ের হাত ধরে গিয়েছিল ওই একরত্তি ছেলে। লিফট থেকে বেরনো পর্যন্ত সব কিছুই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু লিফট থেকে বেরনোর পরেই ফোনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে বাচ্চাটির মা। হঠাৎ করে পাশের রেলিংয়ের কাছে গিয়ে কিছু একটা দেখতে যায় বাচ্চাটি। মুহূর্তেই এই বিপদ।

রেলিংয়ের ফাঁক গলে বাচ্চাকে পড়ে যেতে দেখে মুহূর্তের মধ্যে ঝাঁপ দিয়ে তার পা ধরে ফেলেন মা। সেই অবস্থাতেও কিন্তু নিজের মোবাইল ফোনটি সাবধানে পাশে রাখেন ওই মহিলা। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিত বাকিরাও ছুটে আসে। কিন্তু কারও সাহায্য করার আগেই বাচ্চাটিকে টেনে তোলে তার মা।

পুরো ঘটনাটি সিসিটিভিতে রেকর্ড হয়ে যায়। সেখানে দেখা যায়, আশেপাশের সবাই ছুটে এসে হাততালি দিচ্ছেন। এই ঘটনার ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। সবাই প্রশংসা করা শুরু করেন মায়ের। কেউ বলেন, ‘সত্যি এটা বোধহয় মা’ই পারে। এই সাহসী মহিলাকে কুর্নিশ জানাই।’ কেউ আবার লিখেছেন, ‘ম্যাচের সেরা ক্যাচের পুরস্কার দেওয়া উচিত ওই মহিলাকে।’

এই ঘটনার পর বিল্ডিংয়ের ম্যানেজার জুয়ান ফ্রাঙ্কো জানিয়েছেন, “ভাগ্য ভালো, ছেলেটির কিছু হয়নি। তার কোনও রকমের চোট হয়নি। তবে এই বিষয়ে পুরো কৃতিত্ব প্রাপ্য ওর মায়ের। যেভাবে ও ছেলেকে রক্ষা করলো, ভাবা যায় না।” অবশ্য শুধু কথা নয়, এরপর ওই বিল্ডিংয়ের প্রতিটি রেলিংয়ে কার্ডবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছে বিল্ডিং কর্তৃপক্ষ। যাতে ভবিষ্যতে এই ধরণের কোনও ঘটনা না ঘটে, তার জন্যই এই ব্যবস্থা, জানিয়েছে বিল্ডিং কর্তৃপক্ষ।

দেখুন ভিডিয়ো

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More