উহানে করোনা ভয়, ৬ মাস পরেও রোগীর শরীরে দেখা যাচ্ছে সংক্রমণের উপসর্গ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভয়ঙ্কর করোনা ছড়িয়েছিল চিনের উহান শহর থেকেই। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষ থেকে সংক্রামক ভাইরাস ছড়ানোর খবর মিলেছিল উহানের মাছ-মাংসের বাজার থেকেই। এত মাস পরেও উহানের সংক্রমণ কমার নাম নেই। সেখানকার স্থানীয় প্রশাসন বলছে, শহরের এক তৃতীয়াংশ মানুষের মধ্যে এখনও সংক্রমণের উপসর্গ রয়েছে। ৬ মাস আগেও যারা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন সেই সব রোগীদের শরীরেও মারাত্মক সব উপসর্গ দেখা গিয়েছে।

চিনের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উহানের ৭৬ শতাংশ কোভিড রোগী সংক্রমণ সারালেও নানারকম জটিল রোগে ভুগছেন। সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ১৭০০ রোগীর শরীরে একই রকম জটিল রোগের উপসর্গ দেখা গিয়েছে।

কী ধরনের উপসর্গ দেখা যাচ্ছে? ল্যানসেট মেডিকেল জার্নালের রিপোর্টেও চিনের একদল বিশেষজ্ঞ বলছেন, মানসিক অবসাদ, মস্তিষ্কের রোগ, ফুসফুসের সংক্রমণ, অনিদ্রা বা ইনসমনিয়ার উপসর্গ দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগ রোগীরই। অন্তত ৬৩% রোগী মস্তিষ্কের রোগ ও ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছে। ২৩% রোগীর মানসিক অবসাদ দেখা গিয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেও উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা গ্রাস করছে বেশিরভাগ রোগীকেই।

উহান ইউনিভার্সিটির ঝংনান হাসপাতালে করোনা রোগীদের উপর সমীক্ষা চালিয়ে হাসপাতালের ডিরেক্টর ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ পেং ঝিয়ং বলেছেন, করোনা সারিয়েছেন এমন ১০০ জন রোগীর মধ্যে ৯০ জনেরই ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে গেছে। কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে।

চিনের গবেষকরা বলছেন, সার্স-কভ-২ ভাইরাস এপিথেলিয়াল কোষকে এমনভাবে সংক্রামিত করছে যে গোটা ফুসফুসই আক্রান্ত হচ্ছে। তার উপর ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধতে দেখা যাচ্ছে। ফলে অক্সিজেন আর ফুসফুসে ঢুকতে পারছে না। তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হচ্ছে রোগীর। করোনা সারানোর পরেও শ্বাসের সমস্যা, শুকনো কাশি এমনকি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে রোগী। রক্ত জমাট বেঁধে পালমোনারি থ্রম্বোসিসও দেখা গেছে অনেকের। প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশনও ফুসফুস অকেজো হওয়ার আরও একটা কারণ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে সাইটোকাইন প্রোটিনের ক্ষরণ বেড়ে যাচ্ছে, ফলে ভারসাম্য টলে যাচ্ছে। এই প্রোটিনের মাত্রা বেশি হলেই প্রদাহ শুরু হয়, যার কারণে শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। হয় ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দিতে হয় রোগীকে না হলে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখতে হয়।

করোনা সারিয়েছেন এমন রোগীরা ৬ মিনিটে ৪০০ মিটারও হেঁটে যেতে পারছেন না। শ্বাসের সমস্যা দেখা দিচ্ছে অনেকের। অথচ সুস্থ ব্যক্তিরা ওই সময়ের মধ্যেই প্রায় ৫০০ মিটার পথ হাঁটতে পারছেন। পরীক্ষায় আরও দেখা গেছে, ফুসফুস সবচেয়ে বেশি দুর্বল হচ্ছে ৫০ বছরের বেশি বয়সী রোগীদের। বেজিং ইউনিভার্সিটি অব চাইনিজ মেডিসিনের গবেষক লিয়াং তেংজিয়াও বলেছেন, ৫৫-৬০ বছর বয়সীরা করোনা সারিয়ে উঠলেও তাঁদের ফুসফুস আর আগের মতো কাজ করতে পারছে না। ফলে বেশিরভাগকেই অক্সিজেন সাপোর্ট নিয়ে থাকতে হচ্ছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More