পেগাসাস বিতর্কে সংসদ অচল, সরকারের ক্ষতি ১৩০ কোটির বেশি

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সংসদের বাদল অধিবেশনের শুরুতেই বিরোধীরা দাবি তুলেছেন, পেগাসাস স্পাইওয়ারের সাহায্যে কারো ফোনে আড়ি পাতা হয়েছিল কিনা তা নিয়ে তদন্ত করতে হবে। সরকার তাতে রাজি নয়। তাই বিরোধীরা সংসদের দুই কক্ষের অধিবেশন চলতে দেননি। শনিবার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হল, সংসদ অচল হওয়ায় করদাতাদের ১৩০ কোটি টাকার বেশি অর্থ জলে গিয়েছে।

গত ১৯ জুলাই বাদল অধিবেশন শুরু হয়। সরকার জানিয়েছে, তারপর থেকে জুলাই মাসের শেষ পর্যন্ত লোকসভায় অধিবেশন হয়েছে মাত্র সাত ঘণ্টা। অথচ ওই সময়ের মধ্যে ৫৪ ঘণ্টা অধিবেশন হতে পারত। রাজ্যসভাতেও ৫৩ ঘণ্টার বদলে অধিবেশন হয়েছে মাত্র ১১ ঘণ্টা।

কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব পেগাসাস ইস্যুতে দুই কক্ষেই বিবৃতি দিয়ে  জানিয়েছেন, কোনও আড়িপাতার ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে বিরোধীরা সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর চাইছেন। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী বলেন, বিরোধীদের আচরণ দুর্ভাগ্যজনক। সম্প্রতি তিনি বিরোধী নেতা মল্লিকার্জুন  খাড়্গের সঙ্গেও কথা বলেন যাতে সভা স্বাভাবিক ভাবে চলতে পারে। যোশী দাবি করেন, পেগাসাস এমন কোনও বড় বিষয় নয়। এসম্পর্কে যা বলার, মন্ত্রী বলেই দিয়েছেন। দেশে অনেক বড় ইস্যু আছে। সেগুলি নিয়ে আলোচনার জন্য সরকার প্রস্তুত।

রাজ্যসভায় চেয়ারম্যান এম বেঙ্কাইয়া নাইডু পেগাসাস ও আরও কিছু ইস্যুতে বিরোধী শিবিরের কয়েকজন সদস্যের আচরণে উষ্মা প্রকাশ করে  বলেছেন, এর ফলে সভার মর্যাদা, সম্মান  নষ্ট করেছে। কোনও কোনও সদস্য হুইসল দিয়েছেন, কেউ আবার মন্ত্রীদের মুখের সামনে প্ল্যাকার্ড তুলে ধরে বাধা দিয়েছেন। তিনি সভার নিয়মবিধি মানতে সদস্যদের আবেদন করে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন।

দুই প্রবীণ সাংবাদিক এন রাম ও শশী কুমার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন, পেগাসাস কাণ্ডে তদন্ত করুন কোনও কর্মরত অথবা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। আগামী সপ্তাহে সেই আবেদন শুনবে সুপ্রিম কোর্ট।

এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করে দাবি করেন, পেগাসাস নিয়ে আদালতের নজরদারিতে তদন্ত করতে হবে। এর আগে জানা যায়, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপদস্থ অফিসার, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা, নীতি আয়োগ, ইডি অফিসারদের ফোনেও আড়ি পেতেছিল পেগাসাস স্পাইওয়্যার! অনুমান করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী দফতরের আধিকারিকদের ফোনেও ফাঁদ পাতা হয়েছিল।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More