চিনে নতুন তৈরি মসজিদ ভাঙতে গিয়ে মুসলিমদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে সরকার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : উত্তরপূর্ব চিনের উইঝাউ শহরে জড়ো হয়েছেন হাজার হাজার  হুই মুসলিম। তাঁদের লক্ষ্য, শহরের সদ্য নির্মিত একটি মসজিদ ভেঙে ফেলাকে যে কোনও ভাবে আটকানো। তাঁরা স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এলাকায় বসে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন। চাপে পড়ে আপাতত ওই মসজিদ ভাঙার সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হঠেছে চিন সরকার। চিনে সংখ্যার নিরিখে উইগুর মুসলিমদের পরেই হুই মুসলিম সম্প্রদায়। সাম্প্রতিক কালে এই ধরনের প্রতিবাদ চিনে দেখা যায়নি।

গত ৩ অগস্ট ইউঝাউ প্রদেশের প্রশাসন এলাকায় জানিয়ে দেয়, নবনির্মিত মসজিদটি সঠিক অনুমতি না নিয়েই তৈরি করা হয়েছে। তাই সেটিকে ১০ অগস্টের মধ্যে ভেঙে ফেলা হবে। যদি মসজিদ কর্তৃপক্ষ নিজে থেকে তা ভেঙে না ফেলে, তা হলে প্রশাসন তা জোর করে ভেঙে দেবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়। আপাতত ঠিক হয়েছে, গোটা মসজিদটি ভাঙা হবে না। কিন্তু আটটি গম্বুজ সরিয়ে দেওয়া হবে। যদিও তাতে রাজি নন মুসলিমরা।

গত এপ্রিলে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করে বেজিং জানিয়েছে, চিনে ২ কোটি মুসলিমের বাস। তার মধ্যে ১ কোটি উইগুর ও বাকি ১ কোটি হুই মুসলিম সম্প্রদায়। উইগুররা অধিকাংশই তুরস্ক বংশোদ্ভূত। এদের উপরেই বেশি চোখরাঙানি করে বেজিং। চিনে ইসলামিক শক্তি বা মৌলবাদ যাতে মাথা চাড়া দিতে না পারে, সে জন্য নানা ভাবে চিনের মুসলিমদের উপর দমনপীড়ন চালানোর অভিযোগ রয়েছে বেজিং-এর বিরুদ্ধে। চিনে যে সব ধর্মীয় জনগোষ্ঠী আছে, তাদের উপর কমিউনিস্ট পার্টির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য ২০১৫ সালে একটি নীতি তৈরি করেন চিনের প্রেসিডেন্ট জ়ি জিনপিং। যে সব এলাকায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস, সে সব এলাকায় বাড়িতে বাড়িতে সেনাবাহিনীর লোক পাঠিয়ে দেয়। সেই সব সেনারা মুসলিম পরিবারগুলিতে বসবাস পর্যন্ত করে তাদের উপর নজর রাখার জন্য। অনেক জায়গায় আরবী শেখানোর ক্লাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আরবী শেখানোর স্কুলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More