মমতার বিরুদ্ধে ভবানীপুরে লড়ছেন আচারওয়ালা, যোগা ট্রেনার, স্কুলের প্রিন্সিপালও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভবানীপুরের (Bhawanipur) উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নন্দীগ্রাম থেকে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন তিনি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থাকতে হলে তাঁকে অবিলম্বে কোনও কেন্দ্র থেকে ভোটে জিততেই হবে। সেদিক থেকে দেখতে গেলে আগামী ৩০ তারিখের ভোটের তাৎপর্য অনেক।

দিলীপ ঘোষকে রাজ্য সভাপতি পদ থেকে সরালেন মোদী-শাহ

ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে প্রচারে নেমেছে বিজেপিও। নন্দীগ্রামের মতো এবারেও তৃণমূল সুপ্রিমোকে হারাতে তৎপর তারা। ভবানীপুর থেকে গেরুয়া টিকিটে লড়ছেন বিশিষ্ট আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। এছাড়া সিপিআইএম উপনির্বাচনে ভবানীপুরের প্রার্থী করেছে শ্রীজীব বিশ্বাসকে।

এই তিন আপাত বড় দল ছাড়াও কিন্তু ভবানীপুর থেকে উপনির্বাচনে লড়ছেন আরও ৯ জন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে যোগব্যায়ামের ট্রেনার থেকে শুরু করে আছেন আচার বিক্রেতাও।

ভবানীপুরের গোপাল মিত্র লেনে থাকেন রুমা নন্দন। এবারের উপনির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন তিনি। তাঁর প্রতিপক্ষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত রুমা। একইসঙ্গে ভবানীপুরের রাস্তায় তিনি আচার বিক্রি করেন।

মলয় গুহ রায়, সুব্রত বসুরা জানাচ্ছেন, স্রেফ মজার ছলে ভোটে দাঁড়াচ্ছেন তাঁরা। এখনও একদিনও প্রচারে যাননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপরীতে নাকি নন্দীগ্রামেও ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন এঁদের মধ্যে একজন। সুব্রত জানিয়েছেন তিনি ৭৭টি ভোটও পেয়েছিলেন সেসময়। এই জনপ্রিয়তা আর ভোটের সংখ্যায় তিনি খুবই মজা পেয়েছেন, তাই আবার দাঁড়িয়েছেন। মলয় গুহ রায় ২০১৬ সালে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপরীতেই।

ভবানীপুরের এবারের আরও দুই প্রার্থী আশরফ আলম এবং শাহিনা আহমেদ। তাঁরা কেন ভোটে দাঁড়ালেন তা সংবাদমাধ্যমের কাছে জানাতে চাননি।

তবে একজন নির্দল প্রার্থী আর দুজন অপেক্ষাকৃত ছোট দলের প্রার্থী ভোটে জেতার লক্ষ্য নিয়ে লড়তে নামছেন, তেমনটাই জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমকে। চন্দ্রচূড় গোস্বামী ক্লাসিকাল সঙ্গীত এবং পরিবেশ বিদ্যায় গোল্ড মেডেলিস্ট। তিনি বলছেন, আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ভোটে দাঁড়িয়েছি।

ভারতীয় ন্যায় অধিকার রক্ষা পার্টির বয়স মাত্র তিন বছর। সেই দলের প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়িয়েছেন স্বর্ণলতা সরকার। পেশায় তিনি যোগব্যায়ামের ট্রেনার। স্টেশনারি দোকানের মালিক মঙ্গল সরকার দাঁড়িয়েছেন মহারাষ্ট্রের বহুজন মহা পার্টির টিকিটে। তাঁরা দুজনেই পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন।

এছাড়া কলকাতার এক বেসরকারি স্কুলের প্রিন্সিপাল শতদ্রু রায়। তিনি ভবানীপুরের উপনির্বাচনে হিন্দুস্তানী আওয়াম মোর্চা সেক্যুলারের টিকিটে দাঁড়িয়েছেন। রবিবার প্রচারেও বেরিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁর উপর হামলা করা হয়েছে প্রচার চলাকালীন।

তবে এই সমস্ত নির্দল বা ছোটখাটো দলের প্রার্থীদের নিয়ে বিশেষ চিন্তাভাবনা করছে না বিজেপি বা তৃণমূল। সকলেই এক বাক্যে মেনে নিচ্ছেন, ভবানীপুরে এবারে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের মধ্যেই।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More