কাবুল বিমানবন্দরে বিস্ফোরণে নিহত শিশু-সহ অন্তত ১৩! অভিযুক্ত আইসিস

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েকদিন আগেই আমেরিকা আফগানিস্তানে তাদের নাগরিকদের সতর্ক করে বলেছিল, কেউ কাবুল বিমান বন্দরের কাছে যাবেন না। কারণ সেখানে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ হতে পারে। সেই আশঙ্কা সত্যি করে বৃহস্পতিবার বিস্ফোরণ ঘটল কাবুল বিমান বন্দরের কাছে। তাতে শিশু সহ অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিমান বন্দরের তালিবান রক্ষীরাও আহত হয়েছে।

আফগানিস্তানে তালিবানের অন্যতম শত্রু হল ইসলামিক স্টেট খোরাসান। তালিবানের এক মুখপাত্র বলেন, আমাদের রক্ষীরাও জীবন বিপন্ন করে বিমান বন্দর পাহারা দিচ্ছে। যে কোনও সময় আইসিস তাদের আক্রমণ করতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ওই বিস্ফোরণ সম্পর্কে জানানো হয়েছে। তিনি নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

এর মধ্যে মার্কিন কংগ্রেসের একদল সদস্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে চিঠি দিয়ে বলেছেন, তালিবান যেন পাকিস্তানের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে না পারে। কারণ সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র যেতে পারে তালিবানের হাতে। পাকিস্তানের ওপরে তালিবানের প্রভাব বাড়ছে কিনা, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে আমেরিকাকে।

মার্কিন কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ ও সেনেটের ৬৮ জন সদস্য চিঠি দিয়ে বাইডেনের কাছে জানতে চেয়েছেন, আফগানিস্তান নিয়ে বাইডেনের পরবর্তী পরিকল্পনা কী। বাইডেনকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছে, তালিবান যদি আফগানিস্তানের সীমান্তে সেনা সমাবেশ ঘটায়, তাহলে আমেরিকা কী করবে? পাকিস্তানকে অস্থিতিশীলতা থেকে রক্ষা করার জন্য কী করবেন বাইডেন?

কংগ্রেস সদস্যদের বক্তব্য, গত কয়েক সপ্তাহে সারা বিশ্ব দেখেছে, কীভাবে দ্রুত ক্ষমতা দখল করেছে তালিবান। যতদূর মনে হচ্ছে, এখন সেখান থেকে আমেরিকার সেনাবাহিনী ফিরিয়ে না আনা উচিত ছিল। এছাড়া কংগ্রেস সদস্যদের অভিযোগ, আফগানিস্তান থেকে আমেরিকার নাগরিক ও তাঁদের আফগান সহযোগীদের ফিরিয়ে আনতে অনর্থক দেরি করছে বাইডেন প্রশাসন।

এদিন আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে ৩১ টি বিরোধী দলের সঙ্গে বৈঠকে বসে মোদী সরকার। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর বলেন, ১৫ হাজার মানুষ আফগানিস্তান থেকে পালানোর জন্য ভারত সরকারের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। আপাতত ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনার ওপরেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

জয়শংকর পরে জানান, ভারতীয়দের অধিকাংশকেই আফগানিস্তান থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বুধবারের ফ্লাইটে কয়েকজন ফিরতে পারেননি। ভারতীয়দের জন্য ই-ভিসা চালু করা হয়েছে। যত শীঘ্র সম্ভব সরকার প্রত্যেক ভারতীয়কেই ফিরিয়ে আনবে।

সর্বদলীয় বৈঠকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যে জার্মানির চ্যান্সেলার অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের সঙ্গে কথা বলেছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে। আগামী দিনে আফগানিস্তান নিয়ে তিনি আরও কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.