ট্র্যাক্টর মিছিলের পরদিনই আন্দোলন ছেড়ে বিদায় দু’টি কৃষক সংগঠনের

1

দ্য ওয়াল ব্যুরো : দিল্লিতে ট্র্যাক্টর মিছিলের পরদিনই কৃষক সংগঠনগুলির মধ্যে শুরু হল বিরোধ। কিষাণ সংঘর্ষ কমিটির নেতা ভি এম সিং বলেছেন, “এই বিক্ষোভে এমন কেউ কেউ আছেন যাঁদের উদ্দেশ্য অন্য। আমরা তাঁদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারি না।” ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের একটি অংশও আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। তাদের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে।

মঙ্গলবার কৃষকদের ট্র্যাক্টর মিছিলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হিংসার সাক্ষী থেকেছে রাজধানী দিল্লি। এদিন মোট ৩০০ পুলিশকর্মী আহত হন। মারা যান এক কৃষক। দিল্লি পুলিশ মঙ্গলবারের ঘটনায় ২২ টি মামলা করেছে। কয়েকজন কৃষক নেতার নামেও মামলা হয়েছে। হিংসায় যাদের উস্কানি ছিল, তাদের চিহ্নিত করছে পুলিশ। একটি ষড়যন্ত্রের মামলাও করা হয়েছে।

এদিন বিক্ষোভকারীদের একাংশ ঐতিহাসিক লালকেল্লায় ঢুকে পড়েন। তাঁদের হাতে ছিল লাঠি ও পতাকা। ‘নিশান সাহিব’ নামে একটি ধর্মীয় পতাকা তাঁরা লালকেল্লায় উড়িয়ে দেন। লালকেল্লার অভ্যন্তরে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে তাড়া করেন।

বুধবার ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের নেতা ঠাকুর ভানুপ্রতাপ সিং বলেন, “গতকাল দিল্লিতে যা ঘটেছে, তাতে আমি মর্মাহত। আমি এখনই আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াতে চাই।” ভানুপ্রতাপ সিং-এর অনুগামীরা ছিল্লা সীমান্তে অবস্থান করছিলেন। তাঁদের এদিন চলে যেতে দেখা যায়।

এদিন কৃষক নেতারা সমর্থকদের উদ্দেশে সংযত থাকার আবেদন জানান। এদিন দিল্লি-হরিয়ানা সীমান্তে তাঁরা সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের বক্তব্য, এখনই অধৈর্য হয়ে লাভ নেই। আন্দোলন এখনও অনেকদিন ধরে চলবে।

কৃষক নেতাদের একাংশ লালকেল্লার ঘটনার জন্য পাঞ্জাবের গায়ক, অভিনেতা তথা সমাজকর্মী দীপ সিধুকে দায়ী করেছেন। এক কৃষক নেতা বলেন, “দীপ সিধু সরকারের লোক। এই ষড়যন্ত্রটা আমাদের বোঝা দরকার।” পরে তিনি বলেন, “দীপ সিধু সর্দার নয় গদ্দার।”

অন্যদিকে দীপ সিধু ফেসবুকে পোস্ট করে বলেন, তাঁরা জাতীয় পতাকার অবমাননা করেননি। প্রতীকী প্রতিবাদ হিসাবে ‘নিশান ই সাহিব’ পতাকা লাগিয়েছিলেন।

তাঁর কথায়, “আমরা কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানানোর জন্য নিশান সাহিব ও কৃষক সংগঠনের পতাকা লাগিয়েছিলাম। জাতীয় পতাকার অবমাননা করিনি। আমরা কিষাণ-মজদুর একতা নিয়ে স্লোগানও দিয়েছিলাম।”

লালকেল্লার ঘটনার সমর্থনে দীপ সিধু বলেন, গণ আন্দোলনে ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ দেখা যেতেই পারে। যখন মানুষের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, তখন সে রাগবেই।

অভিনেতার দাবি, বিক্ষোভকারীরা কোনও সম্পত্তির ক্ষতি করেননি। তাঁর কথায়, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছি।”

You might also like
1 Comment
Leave A Reply

Your email address will not be published.