লক্ষ্য পাঞ্জাবের শিখ ভোট? ‘খালিস্তানি’ মন্তব্যে কঙ্গনাকে তলব দিল্লির আপ সরকারের কমিটির

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন কৃষি আইন বিরোধী কৃষক আন্দোলনকে (farmers agitation) খালিস্তানি আন্দোলনের (khalistani)  সঙ্গে তুলনা করে সোস্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার অভিযোগে বিতর্কে জড়িয়েছেন। এজন্য কঙ্গনা রানাউতকে (kangana ranaut) তলব (summon) দিল্লি বিধানসভার শান্তি ও সৌহার্দ্য সংক্রান্ত কমিটির (delhi assembly committee)। আম আদমি পার্টির (aap) (আপ) নেতা রাঘব চাড্ডার নেতৃত্বাধীন কমিটির সামনে কঙ্গনাকে ৬ ডিসেম্বর হাজিরা দিতে হবে।
সূত্রের খবর, কঙ্গনার বক্তব্য শিখ সম্প্রদায় বিরোধী (anti sikh), অবমাননাকর বলে কমিটির অভিমত। তারা কঙ্গনাকে পাঠানো হাজিরার নোটিসে বলেছে, কমিটির কাছে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে যার বক্তব্য, আপনি গত ২০ নভেম্বর আপনার সরকারি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে অবমাননাকর, অপমানজনক স্টোরি পোস্ট করেছেন। রানাউতের সরাসরি শিখদের খালিস্তানি সন্ত্রাসবাদী তকমা দেওয়ার ফলে গোটা শিখ সম্প্রদায়ের মনে আঘাত লেগে ক্ষত ও সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে বলে অভিমত কমিটির।
মুম্বইয়ে কঙ্গনার বিরুদ্ধে এফআইআর করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, দিল্লি শিখ গুরুদ্বার ম্যানেজমেন্ট কমিটি নেতারা ও শিরোমনি অকালি দল। অভিযোগ, কঙ্গনা উদ্দেশ্যপূর্বক কৃষকদের বর্ষব্যাপী আন্দোলনকে খালিস্তানি আন্দোলন তকমা দিয়ে কৃষকদেরও খালিস্তানি জঙ্গি বলেছেন।

ইনস্টাগ্রাম পোস্টে কী বলেছিলেন বিজেপি-ঘনিষ্ঠ ও নরেন্দ্র মোদীর কট্টর সমর্থক বলে পরিচিত অভিনেত্রী?
কঙ্গনা লেখেন, খালিস্তানি সন্ত্রাসবাদীরা আজ হয়ত সরকারকে নাচাচ্ছে। কিন্তু একজন মহিলার কথা যেন না ভুলে যাই। একমাত্র মহিলা প্রধানমন্ত্রী যিনি ওদের জুতোর তলায় পিষে দিয়েছিলেন। দেশের তিনি কতটা ক্ষতি করেছিলেন, ভুলে যান, কিন্তু নিজের জীবন দিয়ে তিনি ওদের মশার মতো ঝাড়েবংশে নির্মূল করেছিলেন। দেশকে টুকরো হতে দেননি।
এভাবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গাঁধীর উল্লেখ করেছেন কঙ্গনা। ১৯৮৪র ৩১ অক্টোবর নিজের শিখ দেহরক্ষীদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যান ইন্দিরা। তার ভয়াবহ পরিণতিতে দেশের নানা জায়গায় শিখ-বিরোধী দাঙ্গার বলি হয় প্রায় ৩ হাজার লোক। ভাঙচুর হয় শিখদের বাড়িঘর, দোকানপাট, গুরুদ্বার।
রাজনৈতিক মহলের অভিমত,পঞ্জাবে বিধানসভা ভোট সামনেই। বিজেপি সেখানে তেমন শক্তিশালী নয়। অকালিদের পাশাপাশি সেখানে বড় বিরোধী শক্তি হয়ে উঠতে চাইছে আপ। সেই লক্ষ্যে কঙ্গনার মন্তব্যকে হাতিয়ার করে শিখ ভাবাবেগ উস্কে দিয়ে ভোটবাক্সে ফায়দা তুলতে চায় তারা।

 

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.