আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লুয়ের হানা ভিয়েতনামে, লাখ লাখ শুয়োর নিধন চলছে

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে ভিয়েতনামে। শয়ে শয়ে খামারে সংক্রমণ ছড়িয়েছে।দেশের ৫৭টি শহরে সংক্রমণ মারাত্মক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে খামারগুলিতে। ক্রমশই তা বেড়ে চলেছে। ভিয়েতনাম সরকার জানিয়েছে, সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস মহামারীর মতো ছড়াচ্ছে। এখনও অবধি আড়াই লাখের কাছাকাছি শুয়োর হত্যা করা হয়েছে।

আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু মানুষের শরীরে তেমনভাবে ছড়াতে পারে না। তবে কোনও একটি খামারে পশুদের শরীরে সংক্রমণ ছড়ালে তা লাগোয়া খামারগুলিতেও দ্রুত ছড়াতে শুরু করে। ইউরোপ ও এশিয়াতে সোয়াইন ফ্লুয়ের হানায় কয়েক লাখ শুয়োর হত্যা করা হয়েছে গত বছর থেকেই। করোনা কালেই চিনে সোয়াইন ফ্লুয়ের নতুন রকম ভাইরাল স্ট্রেন খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল বলে খবর সামনে আসে। চিনের কয়েকটি ইউনিভার্সিটি ও চাইনিজ সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানায় এই নতুন রকম সোয়াইন ফ্লু ভাইরাল স্ট্রেনের নাম জি৪’ (G4) । পরে এই প্রজাতি কানাডাতেও খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। ভিয়েতনাম সরকার জানিয়েছে, দেশে সোয়াইন ফ্লু সুপার-স্প্রেডার হয়ে ছড়াচ্ছে। এর সঙ্গে অন্য কোনও প্রজাতির মিউটেশন হয়েছে কিনা তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন গবেষকরা।

সোয়াইন ফ্লু ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস (SIV) বা সোয়াইন-অরিজিন ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস (S-OIV) ভাইরাস হল আসলে ইনফ্লুয়েঞ্জা পরিবারেরই একরকম ভাইরাল স্ট্রেন যার বাহক শূকর। ২০০৯ সালে এসআইভি স্ট্রেন ইনফ্লুয়েঞ্জা-সি সংক্রামক হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এরই সাব-টাইপ হল ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ যার সংক্রামক স্ট্রেন এইচ১এন১, এইচ১এন২, এইচ২এন১, এইচ৩এন১, এইচ২এন৩ ইত্যাদি।

সোয়াইন ফ্লুয়ের জীবাণু শূকর থেকে মানুষের শরীরেও ছড়াতে পারে। ইনফ্লুয়েঞ্জার মতোই উপসর্গ দেখা দেয় সোয়াইন ফ্লু হলে। জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। করোনার মতোই মানুষের দেহকোষে এই ভাইরাল স্ট্রেন বিভাজিত হয়ে প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সোয়াইন ফ্লু  চট করে ধরা পড়ে না। উপসর্গ আর পাঁচটা ভাইরাসঘটিত জ্বরের মতোই। ফলে চিকিৎসা শুরু করতেই বেশ খানিকটা সময় লেগে যায়। ফলে দাপটও বাড়ে রোগের।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.