তিন সপ্তাহ জেলে কাটিয়ে জামিন পেলেন আরিয়ান

1

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ৩ অক্টোবর এক বিলাসবহুল তরণী থেকে ধরা পড়েছিলেন সুপারস্টার শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান (Aryan)। নিষিদ্ধ মাদক সেবনের অভিযোগ ছিল ২৩ বছর বয়সী আরিয়ানের বিরুদ্ধে। অবশেষে বৃহস্পতিবার তাঁকে জামিন দিল বম্বে হাইকোর্ট।

আরিয়ানের গ্রেফতার হওয়া নিয়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক লড়াই। আরিয়ান খানের বিরুদ্ধে মামলায় তদন্তকারী অফিসারের সম্পর্কে আগেই একটি গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নবাব মালিক। তিনি বলেছিলেন, তদন্তকারী অফিসার সমীর ওয়াংখেড়ে জন্মসূত্রে মুসলমান। কিন্তু জালিয়াতি করে হিন্দু পরিচয় দিয়ে তিনি কাস্ট সার্টিফিকেট জোগাড় করেন। তার জোরেই তিনি ইন্ডিয়ান রেভিনিউ সার্ভিসে চাকরি পেয়েছিলেন।

৮৬ বছরে পিএইচডি করলেন হায়দরাবাদের দলিত হেডমাস্টার, মনে মনে কথা দিয়েছিলেন আম্বেদকরকে

ওয়াংখেড়ে অবশ্য দাবি করেন, তিনি হিন্দু। কিন্তু নবাব মালিক টুইটারে ওয়াংখেড়ের ‘নিকাহ নামা’-র ছবি পোস্ট করেছেন। অর্থাৎ তিনি দেখাতে চেয়েছেন, মুসলমান মতেই ওয়াংখেড়ের বিবাহ হয়েছিল। সুতরাং তিনি মুসলমান।

এর আগে নবাব মালিক একটি বার্থ সার্টিফিকেট পোস্ট করে দাবি করেন, সেটি সমীর ওয়াংখেড়ের। বার্থ সার্টিফিকেটে শিশুর বাবার নাম হিসাবে লেখা আছে দাউদ কে ওয়াংখেড়ে। নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর ওয়েবসাইটে লেখা আছে, সমীরের বাবার নাম ধ্যানদেব ওয়াংখেড়ে। নবাব মালিক টুইট করে বলেছেন, সমীরের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে তাঁর কোনও মাথাব্যথা নেই। কিন্তু তিনি প্রমাণ করতে চাইছেন, ওই তদন্তকারী অফিসার জালিয়াত।

মন্ত্রীর দাবি, ২০০৬ সালের ৭ ডিসেম্বর সমীরের বিবাহ হয়। তাঁর বোনের স্বামী আজিজ খান ছিলেন বিয়ের সাক্ষী। এর আগে ওয়াংখেড়ের স্ত্রী ক্রান্তি রেদকার ওয়াংখেড়ে মন্ত্রীর দাবি খারিজ করে বলেন, আমি ও আমার স্বামী সমীর দুজনেই জন্মসূত্রে হিন্দু । আমরা অন্য কোনও ধর্মই গ্রহণ করিনি কখনও। সব ধর্মের প্রতিই শ্রদ্ধা আছে। সমীরের বাবাও ছিলেন হিন্দু। তিনি আমার মুসলিম শাশুড়ি মাকে বিয়ে করেন। শাশুড়ি মা আর নেই। সমীরের আগের বিয়েটা হয়েছিল বিশেষ বিবাহ আইনে। ২০১৬-য় তাঁদের ডিভোর্স হয়। ২০১৭য় আমাদের বিয়ে হয় হিন্দু বিবাহ আইনে।

কিছুদিন আগে মামলার অন্যতম সাক্ষী করণ গোসাভির দেহরক্ষী প্রভাকর সইল বলেছিলেন, গোসাভির সঙ্গে এক ব্যক্তির আলোচনা তিনি গোপনে শুনেছিলেন। গোসাভি নাকি সেই ব্যক্তিকে জানিয়েছিলেন, আরিয়ান খানের মামলায় ১৮ কোটি টাকার ডিল হয়েছে। তার থেকে আট কোটি টাকা পাবেন সমীর। পরে প্রভাকর বলেন, গোসাভির হুকুমে তিনি এক ব্যক্তির থেকে ৫০ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করেন। একটি ব্যাগে ভরে সেই টাকা পৌঁছে দেন ভাসিতে গোসাভির বাড়িতে। সমীর ইতিমধ্যে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.