ছোটদের আবদারে প্রথমবার দুর্গা-দর্শন করলেন ডুয়ার্সের ‘অসুর’রা

দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ আগে দুর্গাপুজোয় ঘর ছেড়ে বেরোতেন না ওঁরা। কিন্তু দিন বদলেছে। বাচ্চারাও ইদানিং আনন্দযজ্ঞে সামিল হতে চাইত। পুজোর সময় ঘরে বন্দি থাকতে ওদের যে আর ভাললাগে না। তাই বাধ্য হয়ে প্রচলিত সংস্কার ভেঙে শিশুদের নিয়ে পুজো দেখতে বেরোলেন ডুয়ার্সের (Dooars) অসুর সম্প্রদায়ের মানুষ।

মহাষ্টমীতে বাংলায় শুভেচ্ছা মোদীর, অঞ্জলি দিলেন দিলীপ, শুভেন্দু, সুকান্তরা

এই প্রথম দেবী দুর্গার মুখ দর্শন করলেন তাঁরা। মঙ্গলবার সপ্তমীর সন্ধ্যায় এক সেচ্ছাসেবী সংগঠনের চেষ্টায় সেই অসম্ভব সম্ভব হল। যুগ যুগ ধরে চলে আসা কুসংস্কার কাটিয়ে উঠলেন অসুর সম্প্রদায়ের মানুষরা। দেবী দুর্গার মুখ দর্শন করলেন তাঁরা ডুয়ার্সের ক্যারন চা বাগানে। বলা যায়, এই প্রথম চলতি স্রোতের বিপরীতে পথ চলা শুরু হল অসুর সম্প্রদায়ের।

ডুয়ার্সের ক্যারন চা বাগানের ক্যারি লাইনে ৫৫টি অসুর সম্প্রদায়ভুক্ত পরিবারের বাস। রীতি মেনে দুর্গাপুজোয় তাঁরা ঘরে বসে থাকতেন এতকাল। এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হাত ধরে সপ্তমীর সন্ধ্যায় তাঁদেরই ৩০ জন ঘুরতে এলেন। যে ঘটনাকে কুর্নিশ জানালেন এলাকাবাসী। প্রথমে আনুষ্ঠানিক ভাবে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়া হয় অসুর জনজাতির দর্শনার্থীদের হাতে। তারপর টোটোতে করে পুজো মণ্ডপে ঘোরানো হয় তাঁদের।

ক্যারন চা বাগানের বাসিন্দা মালতি অসুর জানান, এমন প্রথাই চলে আসছে বংশ পরম্পরায়। পরিবারের পূর্বপুরুষদের মুখে শুনেছিলেন তাঁদের দুর্গাপুজোয় বেরোতে নেই।

অন্যদিকে অনিতা অসুর বলেন, বাচ্চাদের জন্যই বাধ্য হয়ে বের হয়েছেন। পুজোর বাদ্যি বেজে উঠলে ওদের যে ঘরে মন টেকে না।

চলতি মাসের ৮ তারিখে জনসংযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে ক্যারন চা বাগানে শিশুদের নতুন বস্ত্র দিতে গিয়েছিল ধূপগুড়ির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘প্রচেষ্টা’। সেখানেই অসুর সম্প্রদায়ের মানুষরা তাঁদের পুজোয় আনন্দ করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন কথা প্রসঙ্গে। এতেই আনন্দিত হন স্বেচ্ছাসেবীরা। সেই মতোই আয়োজন করেন। তাঁদের উদ্যোগে অষ্টমীর সন্ধ্যায় ক্যারন চা বাগান থেকে ৩০ জন ধূপগুড়িতে আসেন।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধূপগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ সিং, ধূপগুড়ি থানার আইসি সুজয় তুঙ্গা সহ ক্যারন চা বাগানের বাসিন্দারা। উপস্থিত অতিথিরাই অসুর জনজাতির মানুষের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেন। সার্বিকভাবে সপ্তমীর সন্ধেটা সকলের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকল।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More