বিক্ষোভ মিছিল থেকে পুলিশকে ইট, পাল্টা গুলিতে মৃত্যু

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কয়েক মাস আগে কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, মিজোরামে পালিয়ে যাওয়া ব্রু উপজাতির ৩৫ হাজার মানুষকে ত্রিপুরায় পুনর্বাসন দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত ১৬ নভেম্বর থেকে বিক্ষোভে নামে ত্রিপুরার বিভিন্ন সংগঠন। শনিবার উত্তর ত্রিপুরায় একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে শুরু হয় হাঙ্গামা। পুলিশের গুলিতে অন্তত একজন মারা যান।

পুলিশ জানিয়েছে, এদিন পানিসাগর শহরে বিক্ষোভকারীরা আট নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে থাকে। পুলিশ গুলি চালালে ৪৫ বছর বয়সী শ্রীকান্ত দাস মারা যান। গুরুতর আহত হন পাঁচজন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিক্ষোভকারীদের হামলায় দমকলের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। যদিও পুলিশ এসম্পর্কে কিছু জানায়নি। হিংসার আশঙ্কায় শনিবার সকাল থেকেই পানিসাগর ও নিকটবর্তী কাঞ্চনপুর অঞ্চলে বড় সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ছিল ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস।

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ত্রিপুরার নানা প্রান্তে ১২ থেকে ১৫ হাজার মানুষ বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন মেয়েরাও। অনেকে শিশুদের নিয়ে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে আন্দোলন চলছে। গত মঙ্গলবার একদল আদিবাসী উদ্বাস্তু ২৬ টি বাড়িতে হামলা চালায়। একটি পেট্রল পাম্পে আগুন ধরিয়ে দেয়। ১১০ জন স্থানীয় বাসিন্দা পালিয়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেন।

১৯৯৭ সালের অক্টোবর মাসে ত্রিপুরায় জাতিদাঙ্গা বাধে। ২৩ বছর আগে ব্রু উপজাতির হাজার হাজার মানুষ ত্রিপুরা থেকে পালিয়ে পাশের রাজ্য মিজোরামে আশ্রয় নেন। এবছর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সিদ্ধান্ত নেন, উদ্বাস্তুদের ত্রিপুরায় ফিরিয়ে আনা হবে। তাতে ক্ষুব্ধ হয় ত্রিপুরার অনেকে।

গত জানুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় সরকার ত্রিপুরা ও মিজোরাম রাজ্য সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তি করে। তাতে বলা হয়, ব্রু উদ্বাস্তুদের স্থায়ীভাবে ত্রিপুরায় ফিরিয়ে আনা হবে। সেজন্য কেন্দ্রীয় সরকার ৬০০ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করে। সরকারি সূত্রে জানা যায়, ব্রু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের জন্য উত্তর ত্রিপুরায় ১৫ টি জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছিল।

মিজোরাম ব্রু ডিসপ্লেসড পিপলস ফোরাম সম্প্রতি দাবি করে, পুনর্বাসনের পাশাপাশি তাদের তফসিলী উপজাতি হিসাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। ত্রিপুরার বিক্ষোভ সম্পর্কে ব্রু সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ব্রুনো মাশা বলেন, “ওই আন্দোলন নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। আমরা বিশ্বাস করি, সরকার এ ব্যাপারে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।”

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.