আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছিল মিজোরাম পুলিশ, মন্তব্য মেঘালয়ের বিজেপি মন্ত্রীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগে মিজোরাম থেকে নির্বাচিত রাজ্যসভার এমপি কে ভানলালভেনা সরাসরি অসম পুলিশকে খুন করার কথা বলেন। তার আগে সীমান্ত সংঘর্ষে অসমের ছয় পুলিশকর্মী ও এক সাধারণ মানুষ মারা যান। ভানলালভেনা বলেন, অসম পুলিশই মেঘালয়ের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল। ফের যদি তারা ঢোকে, সকলকে খুন করা হবে। শুক্রবার তাঁকে কার্যত সমর্থন করলেন মেঘালয়ের শ্রমমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সানবর শুল্লাই। এদিন তাঁকে ভানলালভেনার ওই বিতর্কিত মন্তব্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, আন্তঃরাজ্য সীমান্ত ‘শত্রুর’ হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আমরাও পুলিশ মোতায়েন করব।

পরে সানবর বলেন, মিজোরামের পুলিশ ও জনগণ প্রমাণ করেছেন, তাঁরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মন্ত্রীর দাবি, মেঘালয়ের মানুষও পুলিশের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ। যদি আন্তঃরাজ্য সীমান্তে অসমের মানুষ মেঘালয়ের বাসিন্দাদের হয়রান করতে থাকে, তাহলে আমরা কেবল চায়ের টেবিলে বসে আলোচনা করব না। আমরা প্রতিক্রয়া জানাব। ঘটনাস্থলেই আমাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে।

মিজোরামের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এভাবেই শক্তিপ্রয়োগ করে নিজেদের লোকজনকে রক্ষা করতে হয়। আমাদের পুলিশেরই সবার আগে গিয়ে অসম পুলিশের সঙ্গে কথা বলা উচিত। আমরা অনেক সময় দেখেছি, সাধারণ মানুষকে এগিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ থাকে পিছনে। প্রশাসনের কর্তাদের উচিত, পুলিশকে সকলের আগে থাকতে বলা।

সানবর বলেন, যদি আপনার বাড়িতে শত্রুরা হামলা করে, তাহলে আপনার আত্মরক্ষার অধিকার আছে। সীমান্তের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়।

এমপি ভানলালভেনার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছে অসম পুলিশ। তাদের বক্তব্য, নির্দিষ্ট ষড়যন্ত্র মাফিক অসম-মিজোরাম সীমান্তে সংঘর্ষ ঘটানো হয়েছিল। যাঁরা সংঘর্ষের ছক কষেছিলেন, ভানলালভেনা তাঁদের অন্যতম। অন্যদিকে শুক্রবার মিজোরাম সরকার জানায়, দুই রাজ্যের সীমান্ত সংঘর্ষের পরে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ও অসম প্রশাসনের কয়েকজন উচ্চপদস্থ অফিসারের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। শনিবার হিমন্ত পাল্টা প্রশ্ন করলেন, সীমান্ত বিরোধ নিয়ে কোনও নিরপেক্ষ সংস্থা তদন্ত করছে না কেন? অসমের কাছাড় জেলা সংলগ্ন মেঘালয়ের কোলাসিব জেলার থানায় হিমন্তদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের আগে মেঘালয়ের পুলিশ চেয়েছিল, অসম পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে। কিন্তু হিমন্তের নির্দেশে অসম পুলিশ আলোচনার টেবিলে বসতে অস্বীকার করে।

এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে, অসম পুলিশ কোলাসিবের পুলিশ সুপারকে বলেছিল, তাঁদের জেলার বেশ খানিকটা অংশ প্রকৃতপক্ষে অসমের মধ্যে পড়ে। তাই তারা সেখানে পুলিশ ক্যাম্প তৈরি করতে চায়। শুধু তাই নয়, অসম পুলিশ ওই বিতর্কিত অঞ্চলে তাঁবু ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি নিয়ে উপস্থিত হয়েছিল। তাতে বোঝা যাচ্ছিল, তারা সত্যিই মিজোরামের জমি দখল করতে চায়। অসম পুলিশের সঙ্গে ২০ টি গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স ছিল।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More