বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ লাগামছাড়া, গোটা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে ঢাকা শহর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ দেশ ক্রমে সামলে উঠছে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা। ঠিক তখনই মুখ থুবড়ে পড়েছে পড়শি বাংলাদেশ। সে দেশে রীতিমতো আছড়ে পড়েছে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ। দিনকেদিন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের একাধিক শহর। এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণ রুখতে ঢাকা শহরকে গোটা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসিনা সরকার।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই ঢাকার আশপাশের চারটি জেলা-সহ মোট সাতটি জেলায় জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব ধরনের যান চলাচল ও জমায়েত বন্ধ করা হয়েছে। ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

যে সাতটি জেলাকে বাংলাদেশ প্রশাসন বিশেষভাবে বিচ্ছিন্ন করছে ঢাকা থেকে, সেগুলি হল মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, মাদারিপুর, রাজবাড়ি ও গোপালগঞ্জ। এসব জেলায় ঢাকা থেকে কোনও বাস চলবে না। ঢাকা থেকে ট্রেন চললেও এই সাত জেলায় সেগুলি থামবে না। ঢাকা থেকে এই জেলাগুলিতে কোনও যাত্রিবাহী জলযানও চলবে না। এর ফলে দেশের অন্য অংশের সঙ্গে কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে রাজধানীর।

ঢাকা থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকবে

বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৭২৭ জন। গত৭০ দিনের মধ্যে এই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। একদিন আগেও আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪৮৪৬ জন। এর আগে সর্বশেষ ১৩ই এপ্রিল ৬ হাজার ২৮ জন আক্রান্ত হওয়ার পরে এটিই সর্বোচ্চ দৈনিক সংক্রমণ। এর ফলে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মোট সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৮৭৭ জন। ১৩ হাজার ৭৮৭ জন মারা গেছেন এ পর্যন্ত।

কোভিড মহামারীর গোড়ার দিকে বাংলাদেশে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৫ জন মারা গেছেন, যা গত প্রায় দুই মাসের মধ্যে প্রাণহানির হিসেবে সর্বোচ্চ।

তবে এই অবস্থায় কেবল ঢাকাকেই বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিল কেন সরকার?

সরকারের কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এই বিষয়ে বলছেন, ‘ঢাকা থেকেই তো সব কিছু পরিচালিত হয়। এখানেই মন্ত্রণালয়, সব কেন্দ্র এখানে। এখানে যদি সমস্যা দেখা দেয় তাহলে তো সারা দেশ চালানো যাবে না। তাই ঢাকাকে নিরাপদ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ, লকডাউনের মাধ্যমে বৈষম্য করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সারা বাংলাদেশেই কোভিড আক্রান্ত হয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিনই বেড়েই চলেছে। এর যুক্তিও দিয়েছে সরকার।

দোকানীরা বলছেন, লকডাউনের মাধ্যমে বৈষম্য করা হয়েছে।

সে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলছেন, ”যেহেতু ঢাকায় ইদানীং সংক্রমণ সামান্য কম বাকি দেশের তুলনায়, তাই এটা যেন ঢাকার ভেতরে না আসে বা ঢাকায় যারা আছে, তারা যেন বাইরে না যায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। বাইরে থেকে চলাচল বন্ধ করতে পারলেই সীমিত হলেও সংক্রমণটা কমানো যাবে।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More