বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক অশান্তি নিয়ে সরব দুই বাংলার বিভিন্ন সংগঠন, বিশিষ্টজন

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে (bangladesh) মৌলবাদীদের তাণ্ডবের নিন্দায় সরব হয়েছে সে দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন। বাংলাদেশের কুমিল্লার একটি পুজোয় কোরান শরীফের অবমাননার অভিযোগ ঘিরে একাধিক দুর্গাপুজো মণ্ডপে ভাঙচুরের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ করার আশ্বাস আগেই দিয়েছেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সারাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট, পুজোমণ্ডপে হামলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। অনেক সংগঠনই রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিচারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিশিষ্টজনেরাও।

রবিবার বাংলাদেশের পরিস্থিতি ছিল শান্ত। নতুন করে অশান্তির ঘটনা ঘটেনি। ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনার পেছনের কারণ অবশ্যই খুঁজে বের করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনও ধর্মপ্রাণ মানুষ, হোক সে হিন্দু, হোক সে মুসলমান কিংবা খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ, তাঁরা ধর্মান্ধ নন, তাঁরা ধর্মভীরু।’

রবিবার বিকেলে ঢাকার একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

এদিকে, শান্তি রক্ষায় ব্যর্থতার অভি়যোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট মানুষ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। রবিবার দুপুরে হাজিগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি মন্দির পরিদর্শন করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘গোয়েন্দারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সঠিক তথ্য দেয়নি। তাই হামলার ঘটনা আটকানো যায়নি। এই ঘটনা জাতির লজ্জা।’ আরও বলেন, ‘আমি আজ নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছি।’ বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চট্টোপাধ্যায় ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হিংসা: হাসিনা সরকারকে আবেদন বাংলার বিশিষ্টদের

কুমিল্লার ঘটনা এবং তার জেরে সে দেশের বিভিন্ন জেলায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে সোমবারও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে বেশ কিছু সংগঠন। সোমবার বেলা তিনটায় কুমিল্লা টাউন হল মাঠে মহানগর আওয়ামী লীগের ডাকে সম্প্রীতি সমাবেশ হবে।

সম্প্রীতির রক্ষার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি প্রতিবাদ হবে কলকাতাতেও। ভাষা ও চেতনা সমিতি, বন্দি মুক্তি কমিটি, ফ্রেন্ডস অফ ডেমোক্রেসি, এআইপিএফ, এসআইও সোমবার বিকেল ৩’টায় গান্ধীমূর্তির পাদদেশে জমায়েতের ডাক দিয়েছে। বাংলাদেশের ঘটনাবলি ছাড়াও প্রতিবাদ জানানো হবে সীমান্তের ৫০ কিমি এলাকাকে বিএসএফের নজরদারির আওতায় আনার কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের, উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় পূজা মণ্ডপে গুলিতে একজনের মৃত্যু ও দুজন কিশোরীর আহত হওয়া, গুরুগ্রামে চার সপ্তাহ ধরে নামাজ পড়াতে বাধা দেওয়া এবং বিহারে দশেরার পর তিনজন সংখ্যালঘুর ওপর হামলার ঘটনারও।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ  ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সমাবেশ করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট নামে একটি সংগঠন। সমাবেশে গৌরব একাত্তরের সাধারণ এসএম শাহীন বলেছেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে এদেশকে একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বানানোর অপচেষ্টা করে যাচ্ছে একটি সম্প্রদায়। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে যে ষড়যন্ত্র করে আসছে। আজ হিন্দুদের মন্দির ভাঙচুর, হামলার মাধ্যমে তাদের সেই আস্ফালন আবার আমরা দেখলাম। আমরা যারা স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি, আমাদের সকল সাংস্কৃতিক সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে এসে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বিএনপি জামাতের এই আস্ফালন আমাদের জন্য সত্যিই লজ্জার।’

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন গণসংগীত সংঘের সদস্য শিল্পী আরিফ রহমান, বাংলাদেশ সংগীত সমন্বয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শিল্পী মাহমুদ সেলিম, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিজানুর রহমান। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্যের সভাপতি গোলাম কুদ্দুসের সভাপতিত্বে নাগরিক সমাবেশে ভাষণ দেন প্রজন্ম একাত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাইফউদ্দিন, আবৃতি শিল্পী রেজিনা ওয়ালি লিনা, বাংলাদেশ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি কামাল বায়জিদসহ আরও অনেকে।

কুমিল্লার পুজো মণ্ডপের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন (বিটিএফ)। এই সংগঠনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ নজিবুল বশর ও মহাসচিব ড. সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, কুমিল্লার পুজো মণ্ডপে যে বা যারা মহাগ্রন্থ আল-কোরান মূর্তির পায়ে রেখে অবমাননার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে তাদের যোগ্য শাস্তি দরকার।

সংগঠনের নেতৃত্বের বক্তব্য, মূর্তির পায়ে পবিত্র কোরান রেখে কোটি কোটি মুসলমান হৃদয়ে আঘাত করা হয়েছে। এই ধরনের গর্হিত কাজ এড়িয়ে যাওযা যায় না। ইসলাম ধর্ম শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার ধর্ম। তাই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মন্দিরে ভাঙচুর, হিংসা ছড়াবার ঘটনাকেও ইসলাম সমর্থন করে না। বিটিএফের আরও বক্তব্য, কুমিল্লার পুজো মণ্ডপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবির ও একটি জঙ্গি গোষ্ঠী সুপরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে দেশে অশান্তি ছড়াচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তি দরকার।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.