শক্তি মিলে গণধর্ষণ, তিন আসামির ফাঁসির সাজা মকুব করল আদালত

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শক্তি মিল গণধর্ষণ মামলার আসামিদের ফাঁসির সাজা খারিজ করল বম্বে হাইকোর্ট। ২০১৩ সালে মুম্বইয়ের বুকে ঘটা এই নৃশংস কাণ্ডের দোষীদের যাবজ্জীবন কারাবাসের আদেশ বহাল হল আজকের রায়ে।

২০১৩ সালে শক্তিমিল এলাকায় ২৩ বছরের এক তরুণী সাংবাদিককে গণধর্ষণ করেছিল তিন অভিযুক্ত। ধরাও পড়েছিল তারা। দায়রা আদালতে শুনানি শুরু হলে ফাঁসির আদেশ দেন বিচারক। জানা গেছিল, এই প্রথম নয়, এর আগেও তারা এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

এর পরে আবেদন, পাল্টা আবেদন চলতে থাকে। কেস গড়ায় হাইকোর্টে। মাঝে কেটে যায় আটটা বছর। এর পরেই আজ, বৃহস্পতিবার বম্বে হাইকোর্টের বিচারক এসএস যাদব এবং পিকে চৌহানের বেঞ্চ আজ রায় দেয়, যাবজ্জীবন কারাবাস হবে অপরাধীদের। তবে কোনও রকম জামিন বা প্যারোলের সুবিধা মিলবে না অপরাধীদের।

হাইকোর্ট আজ জানিয়েছে, “সংবিধান কখনওই জনমতের ওপর ভিত্তি করে হতে পারে না। যে ফাঁসির সাজা ঘোষণা হয়েছে, তাকে পাশে সরিয়ে রেখে গোটা মামলাটা আইনানুগ ভাবে দেখা হয়েছে, তার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

বিজয় যাদব, মহম্মদ কাসিম বেংগালি, মহম্মদ সেলিম আনসারি, সিরাজ রহমান খান ছিল এই মামলার মূল তিন অভিযুক্ত। তাদের সঙ্গেই ছিল আরও এক নাবালক। ২০১৩ সালে তারা ধরা পড়ার পরে ২০১৪ সালের মার্চ মাসে মুম্বই সেশন কোর্টে একাধিক ধারায় অপরাধী প্রমাণিত হয় তারা।

এর পরেই সিরাজ রহমানের যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করে আদালত, নাবালককে পাঠায় সংশোধনাগারে। বাকি তিনজনের ফাঁসির সাজা ঘোষণা হয়। সামনে আসে, এর আগেও ওই শক্তিমিল এলাকাতেই তারা আরও এক ১৯ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করেছিল। ফাঁসির সাজা ঘোষণার পরে হাইকোর্টে যায় তিন অপরাধী।

দায়রা আদালতের সাজার রায়কে চ্যালেঞ্জ করে তাদের আইনজীবীরা সওয়াল করেন, ৩৭৬ই ধারায় ফাঁসি দেওয়ার কোনও কারণ নেই। যাবজ্জীবন সাজাও হতে পারে। জনমতের উপর ভিত্তি করে ফাঁসির সাজা ঘোষণা করা যায় না। পাশাপাশি তাঁরা দাবি করেন, প্রথম বার অপরাধ করে সাজা পাওয়ার পরে তারা নিজেদের সংশোধনের কোনও সুযোগ পায়নি। তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থান তা করতে দেয়নি।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে দিল্লিতে নির্ভয়া গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের পরে ভারতীয় সংবিধানে ৩৭৬ই ধারা যোগ করা হয়। ধর্ষণে অপরাধী সাব্যস্ত কোনও ব্যক্তি যদি ফের ধর্ষণে অভিযুক্ত হয়, তার অপরাধ যদি প্রমাণিত হয় আবারও, তাহলেই এই ৩৭৬ই ধারার প্রয়োগ করা হয় আইনে। এর শাস্তি ফাঁসি অথবা যাবজ্জীবন কারাবাস দুই-ই হতে পারে। মুম্বইয়ের দায়রা আদালতে এই ধারায় ফাঁসি ঘোষণা হলেও, হাইকোর্টে আবেদন করার পরে তা কমে যাবজ্জীবন হয়েছে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.