বাড়ছে টিকাকরণ, কমছে সংক্রমণ, ফের বিকাশের মুখে দেশের অর্থনীতি

দ্য ওয়াল ব্যুরো : পরিষেবা ক্ষেত্র আর ম্যানুফ্যাকচারিং (Manufacturing)। এই দু’টির ওপরে ভর দিয়েই ঘুরে দাঁড়াতে চলেছে দেশের অর্থনীতি। গত অগাস্ট থেকে শুরু হয়েছে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া। সম্প্রতি ব্লুমবার্গ এই খবর জানিয়েছে। ব্লুমবার্গ নিউজ কোনও দেশের অর্থনীতি সম্পর্কে ভবিষৎবাণী করার জন্য আটটি সূচকের সাহায্য নেয়। অগাস্টে দেখা যায়, দু’টি সূচক দ্রুত উর্ধ্বমুখী হচ্ছে। অপর পাঁচটি সূচকও বেশ তেজি। কেবল একটি সূচক নিম্নমুখী হয়েছে।

দ্রুত টিকাকরণ ও করোনা সংক্রমণ কমার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতি ফিরে পাচ্ছে আগের ছন্দ। ১৩০ কোটি লোকসংখ্যার দেশ ভারতে এখনও পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন ৮ কোটি ৩৪ লক্ষ মানুষ। অর্থাৎ জনসংখ্যার এক পঞ্চমাংশও এখনও ভ্যাকসিন নেননি। কোভিডের তৃতীয় ওয়েভের ভয় এখনও রয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে নতুন অর্ডার পেতে শুরু করেছে কারখানাগুলি। পরিষেবা ক্ষেত্রের কর্তারাও জানিয়েছেন, কড়াকড়ি শিথিল হওয়ার পরে তাঁদের ব্যবসাও ফের চাঙ্গা হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

গত বছরের অগাস্টের তুলনায় এবছর অগাস্টে রফতানি বেড়েছে ৪৬ শতাংশ। বিশ্বে দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানি বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। রফতানি সবচেয়ে কমেছে ভিয়েতনামের। অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনের লক্ষণ বোঝা যায় গাড়ি বিক্রির হার থেকে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে যাত্রীবাহী গাড়ির বিক্রি বেড়েছে। কিন্তু কমেছে টু হুইলারের বিক্রি।

গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের অগাস্টে ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৬.৭ শতাংশ। গত জুলাইতে তার আগের বছরের ওই সময়ের তুলনায় শিল্পে উৎপাদন বেড়েছে ১১.৫ শতাংশ। জুলাইতে পরিষেবা শিল্পের বিকাশ হয়েছে ৯.৪ শতাংশ।

গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেন, ভারতের অর্থনীতি হইহই করে এগোচ্ছে। এমনকি তিনি এও বলেন, অন্যান্য তথাকথিত উন্নত দেশ যখন গালে হাত দিয়ে ভাবছে কী করবে, তখন ভারত অর্থনীতিতে যুগান্তকারী সংস্কার করছে।

একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কোভিড মহামারীর জন্য দেশের অর্থনীতিতে ধাক্কা লেগেছিল। কিন্তু মহামারীর সেই ধাক্কার চেয়েও শক্তিশালী ভাবে ভারতের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।” প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “অর্থনীতিতে যে সংস্কারগুলি সরকার করছে তাতে একুশ শতকে ভারত হয়ে উঠবে বিশ্ব অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক। সেই লক্ষ্যেই পদক্ষেপ করছে সরকার।”

বিরোধীরা প্রায়ই বলেন, মোদী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ২০২২ সালের মধ্যে ভারতকে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির জায়গায় পৌঁছে দেবেন। তার এক আনাও বাস্তবায়িত হয়নি। এদিন প্রধানমন্ত্রী যেন তাঁর বক্তৃতায় বিরোধীদেরই সমস্ত সমালোচনার জবাব দিতে চেয়েছেন। বলেছেন, “কেউ কেউ ভেবেছিলেন ভারত ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। বিশ্বের তাবড় শক্তিশালী দেশ যখন ভ্রু কঁচকে ভাবছে কী করব তখন ভারত বিক্লপ ব্যবস্থা তৈরি করছে। বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত পণ্য বন্টনের নতুন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। যা অর্থনীতিকে আরও মজবুত করছে।”

এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভারতের অর্থনীতি যে সামনের দিকে হাঁটছে এটা তারই প্রমাণ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More