জম্মু-কাশ্মীরে কিছু অফিসে ফিরছে টুজি ইন্টারনেট পরিষেবা, সোশ্যাল মিডিয়া এখনও নিষিদ্ধ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা ফিরে এল জম্মু ও কাশ্মীরে। যদিও এখনই ব্যবহার করা যাবে না সোশ্যাল মিডিয়া। সাধারণ মানুষের বাড়িতেও ফিরবে না যোগাযোগ। বুধবার সকাল থেকে উপত্যকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আপাতত চালু করে দেওয়া হল ইন্টারনেট, টুজি স্পিডে।

পাঁচ মাসেরও বেশি সময় হয়ে গেল, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে জম্মু-কাশ্মীর। অক্টোবর মাসে পোস্টপেড ফোনের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠলেও, এখনও চালু হয়নি ইন্টারনেট। এই প্রসঙ্গে গত সপ্তাহেই একটি শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, ইন্টারনেটের অধিকার এখন মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে। তাই এই নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনা করে দেখার জন্য জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনকে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।

তার পরেই কিছুটা নমনীয় হয়েছে প্রশাসন। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষ যাতে কোনও কথা বলতে না পারেন, সেই নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল রইল। এমনকি সাধারণ গৃহস্থ বাড়িতেও ফেরানো হল না ইন্টারনেট যোগাযোগ। কেবল সরকারি ওয়েবসাইট এবং ই-ব্যাঙ্কিংয়ের মতো পরিষেবাগুলিই আপাতত পাওয়া যাবে প্রতিষ্ঠানগুলিতে। এর বাইরে অন্য কোনও উদ্দেশ্যে যাতে কেউ ইন্টারনেট ব্যবহার না করেন, সে দিকে কড়া নজর রাখার জন্যও প্রতিষ্ঠানগুলিকে সতর্ক করেছে প্রশাসন।

সরকারি সূত্রের খবর, দিন দুয়েক পর উত্তর কাশ্মীরের কুপওয়ারা, বন্দিপোরা আর বারামুলা জেলায় নেট ফেরানো হবে। আরও দু’দিন পর দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা, অনন্তনাগ, শোপিয়ান আর কুলগামে এই পরিষেবা ফেরানো হবে। গোটা ব্যাপারটি পর্যালোচনা করে তার পর মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা ফেরানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের উপরাজ্যপাল গিরিশ মুর্মু।

 গত বছরের অগস্ট মাসের ৫ তারিখে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে প্রত্যাহার করা হয় ৩৭০ ধারা। দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয় রাজ্যকে। রাজ্যের এই বিশেষ অধিকার তুলে নেওয়ার পর থেকেই অশান্তির আশঙ্কায় ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরে। ১৪৪ ধারা জারি ছিল দীর্ঘদিন ধরে। যে কোনও জমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা হয়েছে, বন্দি করে রাখা হয়েছে রাজনৈতিক নেতাদের। রয়েছে আরও বহু নিষেধাজ্ঞাও। নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে একাধিক পিটিশন জমা করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন: অনন্ত নিষেধাজ্ঞা সাংবিধানিক নয়! জম্মু ও কাশ্মীরে ইন্টারনেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

তারই একটির শুনানিতে এ দিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এনভি রামানা বলেন, “এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা স্বল্প সময়ের জন্য প্রয়োগ করা যেতে পারে। সেইসঙ্গে এটি বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনারও বিষয়। কিন্তু এতদিন ধরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে রাখা মানে উপত্যকার বাসিন্দাদের বিচ্ছিন্ন করে রাখা। তাই ইন্টারনেট বন্ধ রাখার বিষয়টি অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করতে হবে। কারণ স্বাধীন চলাফেরা, ইন্টারনেট ও মৌলিক স্বাধীনতায় নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে ক্ষমতার নির্বিচার প্রয়োগ চলতে পারে না।”

তিনি আরও জানান, সংবিধানের ১৯ ধারায় যে মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে ইন্টারনেট পরিষেবাও রয়েছে। এই বিষয়টি সাধারণ মানুষকে জানানোর কথাও বলেন বিচারপতি। কারণ অধিকার জানার পরেই তাঁরা আইনত চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন এই ধরনের নিষেধাজ্ঞাকে। কারণ ভিন্নমতকে দমন করার জন্য এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা অনন্তকাল চাপিয়ে রাখা যেতে পারে না।

এই শুনানির পরেই উপকায় ইন্টারনেট ফেরানোর ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন।

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.