নিঠুর প্রেম ভিখারী করেছো মোরে… ছোট্ট ছেলের দরাজ গানে বিষণ্ণ বর্ধমানের গ্রাম, দেখুন ভিডিও

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এতটুকু বয়সে এমন বিবাগী সুর চমকে দিতে পারে! তবে বিষাদ ছাড়া আর কিছুই পায়নি যে সেই ছেলে। আর এমন দরাজ কণ্ঠ! যে শোনেন সেই বিভোর হয়ে যান। এই ছেলে বিখ্যাত না হয়ে যায় কোথায়! এ যে ঈশ্বরের আশীর্বাদ। কিন্তু অত কিছু বোঝে না অভিষেক সানা।পূর্ববর্ধমানের প্রত্যন্ত গ্রাম বালিমাঠ এলাকায় একটা ভাঙাচোরা কুঁড়েঘরই তার জগৎ।

ঘরে বিদ্যুৎ নেই, তাই দিনের আলো থাকতেই পড়াশোনার পাট চুকিয়ে ফেলে অভিষেক। তারপর রাত হলে গানের মাস্টারের বাড়ি, কিংবা নিজের ঘরের এক কোনায় কুপি জ্বেলে রেওয়াজ। লোকগান, আর রাগ রাগিণীতেই আগ্রহ সেই ৯ বছরের ছেলের। তাই সাধনা প্রতিদিনের।

এদিকে সে যত বড় হচ্ছে চিন্তা বাড়ছে পরিবারের। গরিবের ঘরে এমন রত্ন নিয়ে কী লাভ? অনাদর ছাড়া আর কীই বা জুটবে অভিষেকের!

শুনুন সেই অসামান্য গান।

অভিষেকের বয়স যখন ৪, তখন তাকে আর তার ছোটভাই কৌস্তভকে ফেলে রেখে নিরুদ্দেশ হয়ে যান মা ভারতীদেবী। অভিষেকের বাবা তারকচন্দ্র সানা বালি খাদানে শ্রমিকের কাজ করে যৎসামান্য যা রোজগার করেন তা দিয়েই পরিবারের দিন গুজরান হয়।

কিন্তু ছেলের এমন প্রতিভা, তাকে তালিম না দেওয়া যে পাপ! কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না অভিষেকের বাবা। তখনই এগিয়ে আসেন বড়শুলেরই এক গানের মাস্টার। নাম মঙ্গল কালিন্দী। বিনা পারিশ্রমিকেই অভিষেককে গান শেখান তিনি। শুধু তাই নয়, তাঁর লেখা ও সুর দেওয়া লোকগানই গেয়ে যায় অভিষেক।

অভিষেকের কণ্ঠে নিঠুর প্রেমের মূর্ছনা শুনে যেন গোটা গ্রাম ভিখারী হয়ে যায়, ভেসে পড়ে বিষাদের মেঠোপথে। সেই ছোট্ট ছেলেটাকে ঘরে ডেকে মানুষ গান শোনেন আর কাঁদেন। আবার তার গানেই যে আলো হয় বিদ্যুৎহীন কুঁড়ে। স্বপ্ন যে দেখেন গরিবরাও।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.