কৃষকদের সঙ্গে সাত ঘণ্টার বৈঠকেও খুলল না জট, মন্ত্রী বললেন, আমাদের কোনও অহংকার নেই

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিতর্কিত তিনটি কৃষি বিল বাতিল করতে হবে। বৃহস্পতিবার এই দাবিতে অনড় রইলেন কৃষক নেতারা। তাই সরকারের সঙ্গে দ্বিতীয়বারের বৈঠকেও কোনও ফল হল না। দীর্ঘ সাত ঘণ্টা আলোচনার পরে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র তোমর বললেন, “আমাদের কোনও ইগো নেই।” পরে তিনি জানান, কৃষক ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে পরবর্তী বৈঠক হবে শনিবার। আন্দোলনরত কৃষকরা অবশ্য আগে বলেছিলেন, আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি করার জন্য বৃহস্পতিবার শেষ সুযোগ পাবে সরকার।

নরেন্দ্র তোমর কৃষক নেতাদের বলেন, “সরকার কৃষকদের আরও আইনি অধিকার দেওয়ার কথা ভাবছে। তাঁরা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পাবেন। এ ব্যাপারে আমরা তাঁদের গ্যারান্টি দিচ্ছি। এই অবস্থায় কৃষকরা যদি আন্দোলন শেষ করেন, তাহলেই ভাল হয়।” তার আগে কৃষক নেতারা বিস্তারিত জানান, নতুন তিনটি আইনে কী কী গলদ আছে বলে তাঁরা মনে করেন।

নরেন্দ্র তোমর বাদে এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অপর দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গয়াল ও সোমপ্রকাশ। আলোচনাপর্বের মাঝে লাঞ্চ ব্রেকের সময় সরকারের দেওয়া খাবার খেতে অস্বীকার করেন কৃষকরা। তাঁরা বলেন, আমরা খাবার নিয়ে এসেছি। বিজ্ঞান ভবনের বাইরে একটি ভ্যান দাঁড়িয়েছিল। কৃষক নেতারা সেই ভ্যানে খাবার এনেছিলেন। বিজ্ঞান ভবনে তাঁরা নিজেদের আনা খাবার খান।

বিজ্ঞান ভবনের ভেতরে তোলা ছবিতে দেখা যায়, একটা লম্বা টেবিলে বসে নেতারা দ্রুত লাঞ্চ সেরে নিচ্ছেন। কয়েকজন মাটিতে বসে খাচ্ছেন। এক কৃষক নেতা বলেন, “সরকার আমাদের খেতে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা নিজেদের খাবার নিয়ে এসেছি।” অপর এক কৃষক নেতা বলেন, “আমরা মিটিং-এর সময় সরকারের দেওয়া চা সুদ্ধু খাইনি।”

আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে আলোচনার আগে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং-এর সঙ্গে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৈঠকের পরে অমরিন্দর সিং বলেন, কৃষক আন্দোলন কেবল পাঞ্জাবের ইস্যু নয়, তার সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা জড়িত। আমি অমিত শাহকে সেকথাই বলেছি। কৃষক ও সরকার, উভয়ের কাছে আমি আবেদন জানাচ্ছি, তারা যেন আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মিটিয়ে নেয়।

অমরিন্দর সিং-এর কথায়, “কৃষকদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে। আমি এই বিরোধ মীমাংসা করার কেউ নই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আমি জানিয়ে দিয়েছি, সরকারের সঙ্গে কোথায় আমার দ্বিমত আছে। তাঁকে অনুরোধ করেছি, দ্রুত বিরোধ মিটিয়ে নিন। কারণ এর ফলে পাঞ্জাবের অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া বিষয়টা জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত।”

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.