আদানির বন্দরে মাদক উদ্ধারের ঘটনা থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা, বিএসএফ বিতর্ক নিয়ে বলল কংগ্রেস

দ্য ওয়াল ব্যুরো : চলতি বছরেই গুজরাতে শিল্পপতি গৌতম আদানি পরিচালিত মুন্দ্রা বন্দরে (Mundra Port) বিপুল পরিমাণ মাদক ধরা পড়েছিল। কংগ্রেসের দাবি, সেই ঘটনা থেকে দৃষ্টি সরানোর জন্যই সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত তিন রাজ্য, পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও পাঞ্জাবে বিএসএফকে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। তারা এখন থেকে সীমান্তের ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত ভেতরে ঢুকে তল্লাশি অভিযান চালাতে পারবে। কাউকে গ্রেফতারও করতে পারবে। পাঞ্জাবের কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চান্নির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাত করছে কেন্দ্রীয় সরকার।

কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা বৃহস্পতিবার বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে বিএসএফের ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কিছুদিন আগে অন্য প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘ক্রোনলজি সমঝিয়ে’। সেকথার পুনরাবৃত্তি করে সুরজেওয়ালা বলেন, ক্রোনলজি দেখুন। গত ৯ জুন গুজরাতে আদানি পোর্ট থেকে ২৫ হাজার কেজি হেরোইন উদ্ধার হয়েছে। সেপ্টেম্বরে ওই বন্দর থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩ হাজার কেজি হেরোইন। ওই বন্দর বিএসএফের আওতায় পড়ে। এর পরেই পাঞ্জাবে বিএসএফের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়া হল। সুরজেওয়ালার বক্তব্য, “যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো মৃত। ষড়যন্ত্র পরিষ্কার”।

পাঞ্জাব সরকারের আশঙ্কা, বিএসএফের ক্ষমতাবৃদ্ধির ফলে অমৃতসর, তরণ তারণ ও পাঠানকোট জেলায় পুলিশের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব দেখা দেবে।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী টুইট করে বলেছেন, “সীমান্তের ভেতরে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত ঢুকে তল্লাশি চালানোর অধিকার দেওয়া হয়েছে বিএসএফকে। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপরে সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে। আমি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে আর্জি জানাচ্ছি, অবিলম্বে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করুন।”

পাঞ্জাবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুখজিন্দর রণধাওয়া বলেন, “আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের নিন্দা করছি। তারা রাজ্য সরকারের অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে চায়। ভয়ের বাতাবরণ সৃষ্টি করাই তাদের উদ্দেশ্য। পাঞ্জাবের মানুষ এসব সহ্য করবেন না।” পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি সুনীল জাখর মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, তিনি মাত্র এক সপ্তাহ আগে অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। চান্নি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন, মাদক ও অস্ত্রের চোরাকারবার রুখতে সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হোক।

সুনীল জাখর টুইট করে বলেন, “কোনও কিছু চাইতে গেলে আগে সব দিক বিবেচনা করতে হয়। চরণজিৎ চান্নি কি নিজের অজ্ঞাতসারেই পাঞ্জাবকে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন?” পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং টুইটারে লিখেছেন, “আমাদের সৈনিকরা কাশ্মীরে খুন হচ্ছেন। আমরা দেখছি, পাকিস্তান থেকে আরও বেশি মাদক ও অস্ত্র ভারতে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। বিএসএফের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে দেশ শক্তিশালী হবে।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More