বহু কোটি টাকার চোরাই শিল্পদ্রব্য ভারতে ফেরাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

দ্য ওয়াল ব্যুরো : এক মাসের মধ্যে মোট ১৪ টি শিল্পদ্রব্য ভারতে ফেরাবে অস্ট্রেলিয়া। বৃহস্পতিবার সেদেশের ন্যাশনাল গ্যালারি ঘোষণা করেছে, শিল্পদ্রব্যগুলির অন্তত ছ’টি চুরি করে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সবগুলি শিল্পদ্রব্যের দাম ২২ লক্ষ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় তার দাম ১৬ কোটি ৩৪ লক্ষ ১৬ হাজার ১১০ টাকা। ভারত থেকে খোওয়া যাওয়া শিল্পদ্রব্যগুলি চিহ্নিত করেছে ক্যানবেরা আর্ট গ্যালারি। তাদের মধ্যে আছে কয়েকটি মূর্তি, ফটোগ্রাফ ও পুঁথি। সেগুলি চুরি করা হয়েছিল, লুট করা হয়েছিল, অথবা অস্ট্রেলিয়ায় আনা হয়েছিল কোনও ‘অজ্ঞাত উৎস’ থেকে।

ক্যানবেরা গ্যালারির ডিরেক্টর নিক মিতজেভিচ জানিয়েছেন, চোরাই শিল্পসামগ্রীগুলির মধ্যে ৮০০ বছরের পুরানো ভাস্কর্য ও পুঁথিও আছে। তাঁর কথায়, “এতদিন বাদে শিল্পসামগরীগুলি যে ভারতের জনগণকে ফিরিয়ে দেওয়া যাচ্ছে, তাতে আমরা আনন্দিত। ন্যাশনাল গ্যালারি স্থির করেছিল, ইতিহাসের একটি অস্বস্তিকর অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাতে হবে।”

১৪ টি শিল্পসামগ্রীর মধ্যে ১৩ টি অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছিল কুখ্যাত চোরাকারবারি সুভাষ কাপুরের মাধ্যমে। অভিযোগ, তিনি আমেরিকার ম্যানহাটন থেকে চোরাকারবার চালাতেন। তাঁর বিরুদ্ধে ‘অপারেশন হিডন আইডল’ নামে তদন্ত চলছে। এখনও বিচার শুরু হয়নি। ইতিমধ্যে সুভাষ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল আর্ট গ্যালারি ইতিমধ্যে ভারতকে কয়েকটি শিল্পদ্রব্য ফিরিয়ে দিয়েছে। অভিযোগ, সেগুলিও সুভাষের মাধ্যমেই অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছিল। ফিরিয়ে দেওয়া শিল্পসামগ্রীগুলির মধ্যে আছে শিবের একটি ব্রোঞ্জমূর্তি। তার দাম ৫০ লক্ষ ডলার অর্থাৎ ৩৭ কোটি ডলারের বেশি। তামিলনাড়ুর এক মন্দির থেকে মূর্তিটি চুরি করা হয়েছিল।

মিতজেভিচ জানিয়েছেন, অস্ট্রেলি‍য়ার বিভিন্ন মিউজিয়ামে যে শিল্পদ্রব্যগুলি রয়েছে, তার কোনওটির সঙ্গে আইনি বা নৈতিক প্রশ্ন জড়িয়ে আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসম্পর্কে জারি করা হয়েছে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা। এশিয়ার নানা দেশ থেকে আসা আরও তিনটি শিল্পদ্রব্য সম্পর্কে এখন তদন্ত করা হচ্ছে। মিতজেভিচের কথায়, “বিশ্বের প্রায় প্রতিটি মিউজিয়ামেই এই ধরনের সমস্যা রয়েছে। আমরা চাই, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান করতে।”

সুভাষ কাপুর যে শিল্পদ্রব্যগুলি চোরাপথে ভারত থেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন, তার বেশিরভাগ একাদশ কিংবা দ্বাদশ শতাব্দীর। তামিলনাড়ুতে চোল বংশের রাজত্বকালে ওই শিল্পদ্রব্যগুলি তৈরি হয়েছিল। ২০১১ সালে সুভাষ গ্রেফতার হন। তারপর তাঁর হেপাজতে থাকা অনেক শিল্পসামগ্রী সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে ফিরিয়ে দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More