সংসদে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগ, স্বাধিকারভঙ্গের নোটিশ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কোভিডের দ্বিতীয় ওয়েভের সময় অক্সিজেনের অভাবে কেউ মারা যাননি। গত মঙ্গলবার সংসদে এমনই বলেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ভারতী প্রবীণ পাওয়ার। বৃহস্পতিবার তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধিকারভঙ্গের নোটিশ দিল কংগ্রেস। অভিযোগ, তিনি ভুল তথ্য দিয়ে সংসদকে বিপথে চালিত করতে চেয়েছেন। সংবাদ মাধ্যমে জানা গিয়েছে, অক্সিজেনের মাধ্যমে দেশে অন্তত ৬১৯ জন কোভিড রোগী মারা গিয়েছেন। কিন্তু স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনও রাজ্যই বলেনি যে, সেখানে অক্সিজেনের অভাবে কেউ মারা গিয়েছেন।

কংগ্রেস সাংসদ কে সি বেণুগোপাল বলেন, “ভারতী সংসদের অবমাননা করেছেন। সকলেই দেখেছেন, কোভিডের দ্বিতীয় ওয়েভের সময় কীভাবে রাজধানী দিল্লি সহ দেশের নানা প্রান্তে মানুষ অক্সিজেনের অভাবে মারা গিয়েছেন।” রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এম বেঙ্কাইয়া নাইডুকে এক চিঠিতে বেণুগোপাল লিখেছেন, ১১ থেকে ১৫ মে-র মধ্যে গোয়া মেডিক্যাল কলেজে অক্সিজেনের অভাবে মারা গিয়েছিলেন ৮৩ জন। ৫ এপ্রিল থেকে ১ মে-র মধ্যে কর্নাটক ও হরিয়ানাতেও অক্সিজেনের অভাবে অনেকের মৃত্যু হয়।

দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনও কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “অক্সিজেনের অভাবে কারও মৃত্যু হয়নি বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা সর্বৈব মিথ্যা। বহু হাসপাতালই দ্বিতীয় ওয়েভের সময় জানিয়েছিল, তাদের অক্সিজেনের সঞ্চয় শেষ হয়ে এসেছে।”

দেশে দ্বিতীয় ওয়েভ এখন স্তিমিত। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পরে আসবে তৃতীয় ওয়েভ। এইসময় চিন্তা বাড়াচ্ছে কেরল। সারা দেশে এখন অ্যাকটিভ কোভিড কেসের সংখ্যা ৪ লক্ষ ৩ হাজার। তার মধ্যে কেবল কেরলেই আছেন দেড় লক্ষ রোগী। দেশের মোট অ্যাকটিভ রোগীর ৩৭ শতাংশই আছেন দক্ষিণের ওই রাজ্যে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, কেরলে যেভাবে অ্যাকটিভ কেস বাড়ছে, তাতে মনে হয়, সেখান থেকেই কোভিডের তৃতীয় ওয়েভের সূচনা হবে। মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপীও বুধবার বলেছেন, কেরলে যেভাবে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তাকে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের সূচনা ভাবা যেতে পারে।

কোভিড মোকাবিলার জন্য কেরলে ছয় সদস্যের টিম পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। তার নেতৃত্বে আছেন ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের ডিরেক্টর এস কে সিং।

গত মে মাসে কেরলে দৈনিক ৪৩ হাজার জন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকে। কিন্তু জুনের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ফের বাড়ে সংক্রমণ। গত আট সপ্তাহে রাজ্যে সংক্রমণ বেড়েছে ১৩ শতাংশ। বর্তমানে কেরলে দিনে প্রায় ২২ হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More