করোনাকে থোড়াই কেয়ার! উত্তরপ্রদেশে ইমামের শেষকৃত্যে কাতারে কাতারে লোক, দেখুন ভিডিও

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে হু হু করে বেড়ে চলেছে করোনা সংক্রমণ। তারই মধ্যে উত্তরপ্রদেশে এক মুসলিম ধর্মগুরুর মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত শোভাযাত্রায় কাতারে কাতারে অনুগামীদের ঢল। এর ফলে আগামী দিনে গোটা দেশে সুপার স্প্রেডাররা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা চিকিৎসকদের। গোটা ঘটনার জেরে দানা বেঁধেছে বিতর্ক। চাপের মুখে পড়ে গতকাল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ।

ঘটনাস্থল উত্তরপ্রদেশের বদাউন। রবিবার এখানেই আব্দুল হামিদ মহম্মদ সালিমুল কাদরির শেষযাত্রা আয়োজিত হয়। জনপ্রিয় ইমামের মৃত্যুর খবর পেয়ে ভিড় জমান অনুরাগীরা। বেলা যত গড়ায়, ততই রাজ্যের সমস্ত প্রান্ত থেকে ভক্তদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। কোভিড পরিস্থিতির মধ্যেও সকলে বদাউনের উদ্দেশে রওনা হন। তারপর স্বাস্থ্যবিধিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শোভাযাত্রায় পায়ে পা মেলান। লকডাউনের মধ্যেও এই বিপুল জমায়েত কী করে অনুষ্ঠিত হল, সে বিষয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে বদাউনের একটি মসজিদের বাইরে ইমামের দেহ রাখা হয়েছিল। অনুরাগীরা যাতে শেষ দেখা দেখতে পারেন, তার জন্য রীতি মেনে এটা করা হয়। তখন ভক্তদের তেমন আনাগোনাও চোখে পড়েনি। কিন্তু তারপর শোভাযাত্রা শহরের মধ্য দিয়ে যত এগোতে থাকে, ততই বাড়তে থাকে ভিড়।

ইতিমধ্যে জমায়েতের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, অগুনতি মানুষ দল বেঁধে হেঁটে চলেছেন। চারিদিকে গাদাগাদি, ঠেলাঠেলি। সামাজিক দূরত্ববিধি তো দূর অস্ত, সিংহভাগ লোকের মুখে মাস্কের বালাইটুকু ছিল না।

অথচ সরকারি নির্দেশিকা কিন্তু উলটো কথা বলছে। করোনার বাড়বাড়ন্ত ঠেকাতে ইতিমধ্যে রাজ্যজুড়ে লকডাউনের কড়াকড়ি বেড়েছে। বিয়ে, অন্ত্যেষ্টি কিংবা অন্য কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিথিদের সংখ্যাও সর্বাধিক ২০-তে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মাস্ক না পরলে ন্যূনতম হাজার এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা ঘোষণা করেছে যোগী সরকার। তাই এত কিছু সত্ত্বেও খোদ শহরের বুকে রমরমিয়ে এই ব্যাপক জমায়েত কীভাবে সংঘটিত হল, তা নিয়ে প্রশাসনের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন নেটনাগরিকদের একটা বড় অংশ।

ঘরে-বাইরে চাপের মুখে পড়ে অবশ্য ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন৷ বদাউনের পুলিস সুপার সংকল্প শর্মা বলেন, ‘অতিমারী আইনে বেশ কয়েকজনের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ঘেঁটে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। এরপর যারা দোষী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা অবশ্যই কড়া পদক্ষেপ নেব।’

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.