করোনা আবহে অক্সিজেন নিয়ে দড়ি টানাটানি দিল্লি-উত্তরপ্রদেশের, কম যায় না হরিয়ানাও

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশ জুড়ে দেখা দিয়েছে অক্সিজেনের হাহাকার। ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে যাঁদের অবস্থা সংকটজনক, বাড়তি অক্সিজেন সহায়তা তাঁদের চিকিৎসার জন্য একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল রাখতে পারছে না মজুত থাকা অক্সিজেনের পরিমাণ। আর শ্বাসবায়ুর এই চাহিদা যখন তুঙ্গে তখন অক্সিজেন নিয়ে কার্যত দড়ি টানাটানিতে মাতল একাধিক রাজ্য।

দিল্লি উত্তরপ্রদেশ হরিয়ানার মতো রাজ্যগুলিতে এমনিতেই করোনা পরিস্থিতি রীতিমতো উদ্বেগজনক। তার উপর কে কতটা অক্সিজেন পেল, কে আগে পেল আর কে পরে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বচসা। দিল্লি উত্তরপ্রদেশ দুই রাজ্যই অক্সিজেন আটকে রাখা নিয়ে একে অপরের দিকে আঙুল তুলেছে। রাজধানীর অভিযোগ উড়িয়ে উত্তরপ্রদেশের পাল্টা দাবি, তাদের ভাগের অক্সিজেনের অধিকাংশই গত রাতে দিল্লি নিয়ে নিয়েছে।

এক্ষেত্রে অক্সিজেনের জোগান দেওয়া সংস্থা আইনক্স পড়েছে অস্বস্তিতে। তাঁদের কাছেই বিভিন্ন রাজ্য থেকে অভিযোগ জানানো হচ্ছে। এদিকে লড়াইয়ের ময়দানে কোমর বেঁধে নেমেছে হরিয়ানাও। নিজেদের ভাগের অক্সিজেন পাহারা দেওয়ার জন্য পুলিশি নজরদারি দাবি করেছে তাঁরা।

হরিয়ানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনিল ভিজ দাবি করেছেন, “দিল্লিকে অক্সিজেন দিয়ে দিতে বাধ্য করা হচ্ছে আমাদের। প্রথমে আমরা আমাদের প্রয়োজন মেটাবো, তারপর অন্যকে দেব। গতকালই আমাদের একটা অক্সিজেন ট্যাঙ্কার যেটা কিনা ফরিদাবাদ যাচ্ছিল, দিল্লি সরকার লুট করে নিয়েছে। এবার থেকে আমি আমাদের ট্যাঙ্কার গুলোতে পুলিশি নজরদারির ব্যবস্থা করব।”

উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে বলা হয়েছে, “আমাদের রাজ্যের বেশিরভাগ হাসপাতালে অক্সিজেন জোগান দিচ্ছে আইনক্স। কিন্তু দিল্লিতে বাড়তি অক্সিজেন পাঠাতে হলে উত্তরপ্রদেশে সমস্যা হয়ে যাবে।”

এদিকে অক্সিজেনের অভাবে নাজেহাল অবস্থা রাজধানীতে। গতকাল দিল্লির অন্তত তিনটি বড় বড় হাসপাতালে অক্সিজেন প্রায় ফুরিয়ে এসেছিল। মাত্র কয়েক ঘণ্টার অক্সিজেন মজুত ছিল সেখানে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ব্যাকুল ভাবে কেন্দ্রের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছিলেন।

এক্ষেত্রে দিল্লির অভিযোগের তির রয়েছে উত্তরপ্রদেশের দিকে। অক্সিজেন জোগানকারী সংস্থা আইনক্সের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলেছে তারা। করোনা পরিস্থিতির মাঝে রাজ্যগুলির মধ্যে অক্সিজেন নিয়ে এই বিরোধ যে কাম্য নয় কোনোভাবেই, তা বলাই বাহুল্য।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.