যুদ্ধে যোগ দিলেন ইথিওপিয়ার নোবেলজয়ী প্রধানমন্ত্রী

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার যুদ্ধে নামতে চলেছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। টাইগ্রের বিদ্রোহী বাহিনীর আক্রমণে কার্যত তছনছ ইথিওপিয়া। দেশরক্ষায় প্রাণপণ লড়ে চলেছে ইথিওপিয়া সেনাবাহিনী। লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে আবি আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি নিজে সেনাদের নেতৃত্ব দিতে ফ্রন্টলাইনে গিয়ে দাঁড়াবেন। করেওছেন তাই।

ট্রাইগ্রে অঞ্চল থেকে ট্রাইগ্রে বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে এই যুদ্ধ তীব্র থেকে তীব্র হয়ে ওঠার পরিপ্রেক্ষিত অনেক পুরোনো। যুদ্ধও চলছে অনেক দিন ধরে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ নিজে যুদ্ধে নেমে পড়ায় গোটা ঘটনা নতুন এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। ইথিওপিয়া এবং ইরিত্রিয়ার যুদ্ধ থামানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনিই। সেই যোগ্যতাতেই বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি জিতে নিয়েছিলেন।

শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে, প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই জরুরি অবস্থা তুলে নিয়ে হাজার হাজার রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেন আবি আহমেদ। উঠিয়ে নেন মিডিয়া সেন্সরশিপ এবং বিরোধী দলের ওপর জারি হওয়া নিষেধাজ্ঞা। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সামরিক ও বেসামরিক নেতাদের বহিষ্কার করেন। একই সঙ্গে ইথিওপিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

কিন্তু কাজের জন্য সারা বিশ্বের দরবারে তিনি প্রশংসিত হলেও, শেষমেশ রোখা যায়নি ইথিওপিয়ার যুদ্ধ। তবে চেষ্টায় কোনও কসুর নেই প্রধানমন্ত্রীর। সর্বোচ্চ শক্তি ও ক্ষমতা দিয়েই রক্ষা করতে চান দেশবাসীকে। তাই এবার নিজেই নামলেন সম্মুখসমরে।

ইতিমধ্যেই ভয়াবহ এই যুদ্ধের পরিস্থিতিতে ফ্রান্স ও জার্মানি ইথিওপিয়া ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে তাদের দেশের নাগরিকদের। তারা নাগরিকদের উদ্দেশে বলেছেন, প্রথমেই যে ফ্লাইট পাবেন, তাতেই ওই দেশ ত্যাগ করুন। আমেরিকা ও ইংল্যান্ডও একই রকম পরামর্শ দিয়েছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি ট্রাইগ্রে বাহিনী ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা-র দিকে এগোতে শুরু করেছে এবং তারা কিছুদিনের মধ্যে রাজধানী দখল করে নেবে বলে হুমকি দিয়েছে। এমন অবস্থায় ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলের সবরকম যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্ল্যাকআউট হয়ে গেছে। সাংবাদিকদের প্রবেশও নিষিদ্ধ হয়ে গেছে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.