হামাসের মিসাইল আকাশেই গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইজরায়েলের আয়রন ডোম, ঠিক যেন ম্যাজিক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আকাশ জুড়ে ছুটে আসছে একের পর এক মিসাইল। গোটা আকাশটা ছেয়ে গেছে ঘাতক আলোর পিণ্ডতে। কিন্তু একটা আলোও মাটিতে এসে পড়ছে না। শূন্যেই ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। কে যেন আকাশেই তৈরি করে দিয়েছে অদৃশ্য আর শক্তিশালী একটা বেড়াজাল।

ইজরায়েল প্যালেস্তাইন যুদ্ধের ছবি মনে করিয়ে দেয় ম্যাজিক ফিকশন দুনিয়ার বিখ্যাত হ্যারি পটার সিরিজকে। শেষ সিনেমার দৃশ্যে অনেকটা এমন ছবিই দেখা গিয়েছিল। জাদুকাঠি দিয়ে আকাশ জুড়ে রক্ষাকবচ বানিয়েছিলেন হগওয়ার্টস স্কুলের কলাকুশলীরা। আর শত্রুপক্ষের ছোঁড়া একের পর এক শক্তিশালী ম্যাজিক স্পেল নিমেষে মিলিয়ে যাচ্ছিল সেই অদৃশ্য জালে ঠেকে।

তবে কি ম্যাজিক দুনিয়ার গোপন রহস্য জেনে ফেলল ইজরায়েলও? সেই জোরেই কি তারা গাজা থেকে ছোঁড়া হামাসের মিসাইল আকাশপথেই আটকে দিচ্ছে? না, তা নয়। হামাসের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানই অস্ত্র ইজরায়েলের। আর সেই বিজ্ঞান ম্যাজিকের থেকে কম কিছু নয়। ইজরায়েলি এই জাদুর নাম ‘আয়রন ডোম’।

কী এই আয়রন ডোম?

আয়রন ডোম অত্যাধুনিক এক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। প্যালেস্তাইনের দিক থেকে উড়ে আসা সমস্ত মিসাইলকে মাঝ আকাশেই কাবু করে ফেলছে এই আয়রন ডোম।

২০০০ সালে আয়রন ডোম প্রথম তৈরি হয়েছিল। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সাহায্যে ইজরায়েলি ডিফেন্স ম্যানুফ্যাকচারার, রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেম আর ইজরায়েলি এয়ারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ একজোট হয়ে এটি তৈরি করেছিল।

২০০৭ সালে যখন জঙ্গি গোষ্ঠী হামাস গাজা শহর দখল করে নেয়, সেই বছরই আয়রন ডোমকে মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম হিসেবে গ্রহণ করে ইজরায়েল। এর ব্যবহার শুরু হয় ২০১১-তে। শক্র যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আয়রন ডোম কখনও হার মানে না, ইজরায়েলের দাবি তেমনটাই।

কীভাবে কাজ করে এই আয়রন ডোম?

আয়রন ডোমে রয়েছে অ্যাকটিভ র‍্যাডার আর তামির ইন্টারসেপ্টর। ছোট্ট ছোট্ট উড়ন্ত মিসাইল, তা সে যত দ্রুতই উড়ে আসুক না কেন, ঠিক ধরা পড়ে যায় এতে। রকেটের এক্কেবারে মাথায় তাক করে তাকে গুঁড়িয়ে দেয় আয়রন ডোম। মাঝ আকাশেই মিসাইলের দফারফা।

তবে যন্ত্র হলেও আয়রন ডোমের খানিক মায়া-দয়া যে একেবারেই নেই তা নয়। কারণ কিছু কিছু ক্ষেত্রে জেনে বুঝেই সে মিসাইলকে ছেড়ে দেয়। আক্রমণ করে না। যদি উড়ে আসা কোনও মিসাইল জনহীন প্রান্তর, মরুভূমি কিংবা সমুদ্রের দিকে যায়, তবে তাকে বিরক্ত করে না আয়রন ডোম।

শয়ে শয়ে জীবন বাঁচিয়েছে আয়রন ডোম

গত এক দশক ধরে ২ হাজার ৪০০-র বেশি ঘাতক মিসাইল আটকে দিয়েছে ইজরায়েলি আয়রন ডোম। যেমন তার দাম তেমনই তার শক্তি। ইজরায়েলের মিসাইল ডিফেন্স অরগানাইজেশনের প্রধান মোশে প্যাটেল জানিয়েছেন, এক-একটি আয়রন ডোমের পিছনে খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার ডলার। কিন্তু সে শয়ে শয়ে মানুষের প্রাণও বাঁচায়।

যদিও একেবারে ত্রুটিহীন নয় আয়রন ডোম। শত্রুর ছোঁড়া রকেট যদি আকারে খুব বড় হয় তাহলে যন্ত্রের হিসাবে খানিক গোলমাল হয়ে যায়। এই ত্রুটিকে একাধিকবার কাজেও লাগিয়েছে হামাসের সদস্যরা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More