ক্ষতিপূরণের আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন তুলে নিলেন উত্তরপ্রদেশের কৃষকরা

1

দ্য ওয়াল ব্যুরো : রবিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয়কুমার মিশ্রের (Ajaykumar Mishra) ছেলের গাড়িতে চাপা পড়ে মারা যান চারজন। উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরিতে ওই ঘটনার পরে উত্তেজনা ওঠে চরমে। কৃষকরা মৃতদেহগুলির সৎকার করেননি। তাঁরা দেহগুলি ঘিরে সারা রাত বিক্ষোভ দেখান। সোমবার সকালে তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসে পুলিশ। সরকার প্রতিশ্রুতি দেয়, মৃতদের পরিবারগুলিকে ৪৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁরা ক্ষতিপূরণ পাবেন ১০ লক্ষ টাকা করে। এই প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরে আন্দোলন তুলে নেন কৃষকরা। মৃত চারজনের শেষকৃত্য করার প্রস্তুতি শুরু হয়।

ইতিমধ্যে অজয়কুমার মিশ্রের ছেলে আশিস মিশ্রের বিরুদ্ধে খুনের মামলা করা হয়েছে। সোমবার পুলিশ আশ্বাস দেয়, মৃতদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হবে। মন্ত্রী অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁর ছেলে ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা লাঠি ও তলোয়ার নিয়ে বিজেপি কর্মীদের আক্রমণ করেছিল। তাদের হামলায় গাড়ি উল্টে গেলে চারজন মারা যান। কৃষক সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা জানিয়েছে, মৃতরা হলেন লাভপ্রীত সিং (২৪), নাচাত্তার সিং (৬০), দলজিৎ সিং (৩২) এবং গুরবিন্দর সিং (২০)।

রবিবার কৃষক মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে এদিন রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি। এদিন লখিমপুর-খেরি যাওয়ার পথে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরাকে আটক করা হয়। প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী টুইট করে বলেন, প্রিয়ঙ্কাকে ভয় পেয়েছে বিজেপি। তাই তাকে আটকানো হয়েছে।

কংগ্রেস একটি টুইট করে বলে, প্রিয়ঙ্কাকে সীতাপুর পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কংগ্রেস কর্মীদের সেখানে জড়ো হতে আহ্বান জানিয়েছে দল। কংগ্রেসের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রিয়ঙ্কাকে ঘিরে আছেন পুলিশকর্মীরা। দৃশ্যতই উত্তেজিত প্রিয়ঙ্কা বলছেন, “তোমরা যাদের খুন করেছ, তাদের তুলনায় আমার জীবন মূল্যবান নয়। আমাকে আটকানো হয়েছে কেন? আমার নামে কি ওয়ারেন্ট আছে?”

লখিমপুরে ১৪৪ ধারা জারি করে সেখানে রাজনীতিকদের ঢোকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ক্রুদ্ধ প্রিয়ঙ্কাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, আমায় জোর করে ভ্যানে তোলা মানে কিডন্যাপ করা। আমায় গ্রেফতার করার আগে পরোয়ানা নিয়ে আসুন। এ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। প্রিয়ঙ্কাকে ছেড়ে দেওয়ার দাবিতে থানা ঘেরাও করেন কংগ্রেস কর্মীরা। দীপিন্দর সিং  হুডা, আরও পাঁচ কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কংগ্রেস।

প্রিয়ঙ্কা পুলিশকর্মীদের বলেন, “ওয়ারেন্ট নিকালো, অর্ডার নিকালো, নেহি তো ম্যঁয় ইহাঁ সে নেহি হিল রহি হুঁ।” প্রিয়ঙ্কার পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন দীপিন্দর হুডা। তিনি পুলিশকর্মীদের ধমক দিয়ে বলেন, “আপনারা প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে আটকাচ্ছেন কেন?” এরপরে দেখা যায়, পুলিশ ঠেলতে ঠেলতে হুডাকে গাড়ির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। হুডা তখন চেঁচিয়ে বলেন, আমি নিজের চোখে দেখেছি, পুলিশ প্রিয়ঙ্কাকে আঘাত করেছে। আমি সাক্ষী দেব।

You might also like
1 Comment
  1. […] ক্ষতিপূরণের আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন তুলে… […]

Leave A Reply

Your email address will not be published.