জওয়ানদের মৃত্যু বৃথা যাবে না, মাওবাদীদের বিরুদ্ধে আরও জোরদার লড়াই হবে, ছত্তিসগড়ে বললেন অমিত শাহ

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো : শনিবার ছত্তিসগড়ে মাওবাদী হানায় নিহত হন ২২ জন সিআরপিএফ জওয়ান। সোমবার ছত্তিসগড়ে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিহতদের শবাধারে মালা দেন। তারপরে বলেন, মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার হবে। জওয়ানদের আত্মদান বৃথা যাবে না।
এদিন দিল্লি থেকে জগদলপুরে এসে অমিত শাহ প্রথমে যান পুলিশ লাইনে। সেখানে ১৪ জন নিহত জওয়ানের শবাধার রাখা ছিল। অপর আটজনের শবাধার রাখা হয়েছিল বিজাপুরে। জগদলপুর পুলিশ লাইনে মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাগেল, ছত্তিসগড় পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল ডি এম আওয়াস্থি, নিরাপত্তা উপদেষ্টা অরবিন্দ কুমার এবং সিআরপিএফের ডিজি কুলদীপ সিং-এর সঙ্গে বৈঠক করেন অমিত শাহ। মাওবাদী দমন নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেন। বৈঠকের পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাওবাদী দমনে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে কাজ করবে। মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই নির্ধারক রূপ নেবে শীঘ্র।
শনিবার ছত্তিসগড়ে মাওবাদী হানায় ২২ জন জওয়ান নিহত হন। একটি সূত্রে শোনা যায়, ভুল গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে তাঁদের ফাঁদে ফেলা হয়েছিল। এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে সিআরপিএফ। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তোলেন, যদি গোয়েন্দা তথ্যে ভুল না থাকে, তাহলে এতজন জওয়ানের মৃত্যু হল কেন? তার মানে অভিযানের পরিকল্পনা ঠিকমতো করা হয়নি। অপারেশন যথাযথভাবে শেষও করা হয়নি।
শনিবার সিআরপিএফের কাছে খবর যায়, দুই শীর্ষস্থানীয় গেরিলা কম্যান্ডার লুকিয়ে আছে জাগেরগুন্ডা-জোনাগুন্ডা-তাররেম অঞ্চলে। তাদের নাম মাদভি হিদমা এবং সুজাতা।
মাওবাদীদের পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মির দুই কম্যান্ডারকে ধরার জন্য ছ’টি সিআরপিএফ ক্যাম্প থেকে ২ হাজার জওয়ানকে নিয়োগ করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কোবরা ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা।
হিদমার বয়স ৩০-এর কোঠার শুরুর দিকে। তার জন্ম ছত্তিসগড়ে। তার মাথার দাম ৪০ লক্ষ টাকা। সুকমা অঞ্চলে বেশ কয়েকটি গেরিলা আক্রমণের সঙ্গে সে যুক্ত ছিল। এমনকি গত ১১ মার্চ সুকমায় ১১ জন সিআরপিএফ জওয়ানকে হত্যার পিছনেও তার হাত ছিল বলে জানা যায়। ২০১৩ সালের মে মাসে জিরাম উপত্যকায় কয়েকজন কংগ্রেস নেতা সহ ৩২ জন মাওবাদী হানায় নিহত হন। সেই হামলার সঙ্গেও হিদমা যুক্ত ছিল।
হিদমা ও সুজাতার সন্ধানে জওয়ানরা তাররেম অঞ্চলে যেতেই তিনদিক থেকে তাঁদের ঘিরে ফেলে মাওবাদীরা। মোট ৪০০ জঙ্গি জওয়ানদের লক্ষ্য করে গুলিবৃষ্টি করতে থাকে। জওয়ানরাও গুলি চালিয়ে পালটা জবাব দেন। মাওবাদীরা জঙ্গলের আড়ালে লুকিয়ে থাকায় জওয়ানদের তরফে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়।
সিআরপিএফ জানিয়েছে, ২২ জন জওয়ান কর্মরত অবস্থায় মারা গিয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০ জন। মাওবাদীরা দুই ডজন অ্যাসল্ট রাইফেল লুট করেছে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.