প্রায় দেড় বছর পরে এই প্রথম মুম্বইতে কোভিডে মৃত্যু হল না একজনেরও

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ১৮ মাস তিন সপ্তাহ। ঠিক এতদিন পরে মুম্বইতে একজনেরও মৃত্যু হল না কোভিডে (Covid)। দেশে কোভিড অতিমহামারী শুরু হওয়ার পরে ২০২০ সালের ২৭ মার্চ প্রথম মুম্বই থেকে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তারপরে ক্রমশ কোভিডের হটস্পট হয়ে ওঠে বাণিজ্যনগরী। একসময় সেখানে দৈনিক কয়েকশ করে মানুষের মৃত্যু হতে থাকে। এরপর যেভাবে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনা গিয়েছে, তাকে মাইলস্টোন বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

২০২০ সালের ২০ জুন মুম্বইতে কোভিডে ১৩৬ জনের মৃত্যু হয়। করোনার প্রথম ওয়েভের সময় শহরে ওইদিনই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ মারা যান। ২০২১ সালের ১ মে শহরে মারা যান ৯০ জন। দ্বিতীয় ওয়েভের সময় মৃত্যুর ওই হার ছিল সর্বাধিক। মুম্বইতে বর্তমানে ৯৭ শতাংশ মানুষ করোনা ভ্যাকসিনের অন্তত একটি ডোজ পেয়েছেন। ৫৫ শতাংশ শহরবাসী পেয়েছেন দু’টি ডোজ। মুম্বইয়ের পুর কমিশনার ইকবাল সিং চাহাল বলেন, এখন থেকে প্রায়ই মুম্বইতে দৈনিক মৃত্যু শূন্যে নেমে যাবে। বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের অক্লান্ত চেষ্টায় এই সাফল্য অর্জন করা গিয়েছে।

মহারাষ্ট্র সরকারের কোভিড টাস্ক ফোর্সের সদস্য শশাঙ্ক যোশি বলেন, “আমরা অনেক দিন ধরে চেষ্টা করছি যাতে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনা যায়। প্রথম ওয়েভের সময় শহরে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল যথেষ্ট বেশি। তখন ঘন ঘন চিকিৎসার পদ্ধতি পরিবর্তন করা হচ্ছিল। দ্বিতীয় ওয়েভে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়া সত্ত্বেও মৃত্যুর সংখ্যা ছিল কম।” বিএমসি-র অতিরিক্ত কমিশনার সুরেশ কাকানি বলেন, “দীর্ঘদিনের চেষ্টায় মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনা গিয়েছে। দ্বিতীয় ওয়েভের সময় আমরা চেষ্টা করেছিলাম যাতে সকলে সময়ে চিকিৎসা পান। তখন মৃত্যুর হার ছিল আক্রান্তের এক শতাংশেরও কম।

চাহাল অবশ্য বলেন, শহরে পজিটিভিটি রেট এখন ১.২ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরে ওই হার একই রয়েছে।

সম্প্রতি মুম্বইতে লোকাল ট্রেন চালু হয়। সেই সঙ্গে খুলে দেওয়া হয় শপিং মলগুলি। অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন, এর ফলে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবে। যদিও বাস্তবে তা ঘটেনি। পুরসভা থেকে বলা হয়েছে, ভ্যাকসিনের জন্যই মৃত্যুহার কমেছে। যাঁরা অন্তত একটা ডোজ নিয়েছেন, তাঁরাও আক্রান্ত হলে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না। বিএমসি-র বক্তব্য, শহরে রোজ প্রায় হাজার জন আক্রান্ত হচ্ছেন। কিন্তু মৃত্যুহার শূন্যে নামিয়ে আনা গিয়েছে। এর অর্থ কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা জিতে গিয়েছি।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.