৩৪ বছরে হার্ট অ্যাটাক, ৪২ কেজি ওজন কমানো! ফিটনেসে-যাত্রায় সাইকেলই ভরসা প্রসন্নর

1

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ৩৪ বছর বয়সে হার্ট অ্যাটাক (cardiac arrest) হয়েছিল তাঁর। সেই সঙ্গে ছিল বিপজ্জনক ওবেসিটি। সব মিলিয়ে শারীরিক সুস্থতা থেকে বেশ অনেকটাই দূরে ছিলেন প্রসন্ন কার্তিক। কিন্তু কে জানত, বছর দশেকেরও কম সময়ে তিনি নিজেকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে যাবেন, যা কিনা শুধু শারীরিক সুস্থতা নয়, ফিটনেসেরও একটা দুরন্ত উদাহরণ হয়ে উঠবে! আজ তিনি একজন ‘এনডিওরেন্স সাইক্লিস্ট’, যিনি দু’চাকায় ভর করে পেরিয়েছেন কয়েক হাজার কিলোমিটার পথ। হয়ে উঠেছেন বহু মানুষের অনুপ্রেরণা!

শুধু ওষুধ এবং অভ্যাসে নয় প্রসন্নর ট্রান্সফর্মেশনের এই অবিশ্বাস্য যাত্রাটি সম্ভবও হয়েছে সাইকেলের জন্যই। তাই আজও নিজের প্রিয় বাহনটির কাছে কৃতজ্ঞ প্রসন্ন। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে হঠাৎই কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় তাঁর। সেবার সময়ে হাসপাতাসে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি। কিন্তু চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, ওজন না কমাতে পারলে সুস্থ হবেন না তিনি।

হার্টের ধাক্কা একটু সামলানোর পরেই কার্ডিও এক্সারসাইজ শুরু করেন প্রসন্ন। শুরু করেন দৌড়তে। একটু একটু করে ওজন কমতে থাকে তাঁর, এবং সেটা খুব কম নয়। ২২ কেজি। তবে তার পরে তাঁর চামড়া এমন ভাবে ঝুলে গেছিল, থলথলে হয়ে গেছিল গোটা শরীরের কাঠামো, যে তা কোনওভাবেই সুস্থতার লক্ষ্মণ ছিল না।

এর পরে ২০১৪ সালে এক বন্ধুর পরামর্শে তিনি সাইক্লিং শুরু করেন। হার্টের জন্যও সাইক্লিং ভাল ব্যায়াম বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। সেই সঙ্গে শারীরিক ফিটনেসের বিষয়টি তো ছিলই। সব মিলিয়ে শুরু হয় দু’চাকায় দৌড়। সেই সঙ্গেই চলতে থাকে ডায়েট এবং ওয়ার্ক আউট।

সাইকেল চালানোর দক্ষতা এবং সাইক্লিঙের প্রতি ভালবাসা দুইই বাড়তে থাকে প্রসন্নর। ধীরে ধীরে লং ডিসটেন্স সাইক্লিং প্রতিযোগিতায় যোগ দিতে শুরু করেন তিনি। ২০০ কিলোমিটার, ৩০০ কিলোমিটার, ৪০০ কিলোমিটার, ৬০ কিলোমিটার– ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে দূরত্ব এবং নেশা দুইই।

তবে ২০১৭ সালে আবার মারাত্মক দুর্ঘটনার মুখে পড়েন প্রসন্ন। পাহাড়ি পথে নীচে নামার সময়ে সাইকেল নিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েন তিনি। ভেঙে যায় হাতের কব্জি, কলার বোন। প্লেট বসাতে হয় দু’জায়গাতেই। ৬ মাসের জন্য শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন তিনি। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই বেড়ে যায় ওজন।

এই দুর্ঘটনা তাঁকে যেন আবার শূন্যে পৌঁছে দেয়। আবার সেই শূন্য থেকেই শুরু হয় ফিরে আসার যাত্রা। আবার নতুন করে ডায়েট, এক্সারসাইজ, সাইক্লিং। আবারও ৪২ কেজির ওজন কমান তিনি।

শচীন কন্যাকে নিয়ে চেলসি ম্যাচ দেখলেন শুভমান, পেলেন হ্যাট্রিকের জার্সি

এর পরে ২০১৯ সালে প্যারিস-ব্রেস্ট-প্যারিস ব্রেভেটে অংশ নিয়ে ১২০০ কিলোমিটার সাইক্লিং করেন প্রসন্ন। আরও একটি হাজার কিলোমিটার রাইডিংও করেন সফল ভাবে। এখন তিনি সাইক্লিং দুনিয়ায় বেশ পরিচিত। তবে অনেকেই তাঁর এই গত কয়েক বছরের জার্নিটা হয়তো জানেন না।

প্রসন্ন বলছিলেন, “আমার যা অবস্থা হয়েছিল, আমি সেখান থেকে বেরোতে চেয়েছিলাম। আমার মতো আর কারও হোক, এটাও আমি চাইনি। আমি তাই ধীরে ধীরে ডায়েট, ওয়ার্কআউট, সাইক্লিং শুরু করি ভাল থাকার জন্য অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া বন্ধ করা, লাইফস্টাইলকে গুছিয়ে আনা, এটা ছিল প্রাথমিক কর্তব্য।”

তিনি আরও বলেন, “যখন আমার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছিল, তখনও আমি ওয়েট-ট্রেনিং করতাম, কিন্তু কোনও কার্ডিও এক্সারসাইজ করতাম না। খুবই অলস একটা জীবন যাপন করতাম। স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। সেই সঙ্গে ছিল কাজের চাপ, যা আমার হার্টকে আক্রমণ করে সব মিলিয়ে। আর সাইকেলের দুর্ঘটনা আমায় আবার একধাক্কায় সেই একই জায়গায় পৌঁছে দেয়।”

এখন প্রসন্ন নিজের কাজের পাশাপাশি আরও কয়েক জনকে ডায়েট ও এক্সারসাইজের গাইডেন্স দেন। সাধারণ মানুষ যে শুধুই খাওয়াদাওয়া বা এক্সারসাইজের খুঁটিনাটি জানতে পারে তাই নয়, সেই সঙ্গেই জানতে পারেন একটা দারুণ অনুপ্রেরণার গল্পও। শূন্য থেকে বারবার ফিরে আসার কাহিনি। ইচ্ছে থাকলেই যে উপায় হয়, সে কথাই নিজেকে উদাহরণ করে বলেন প্রসন্ন। হার্ট অ্যাটাকের পরে, দফায় দফায় ৪০ কেজিরও বেশি ওজন কমিয়ে, কয়েক হাজার কিলোমিটার পথ সাইকেলে পাড়ি দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, অসম্ভব বলে কিছু হয় না।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like
1 Comment
  1. […] […]

Leave A Reply

Your email address will not be published.