হিন্দুরাই সবচেয়ে সহনশীল, শিবসেনার মুখপত্রে বললেন জাভেদ আখতার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগে আরএসএসের সঙ্গে তালিবানের তুলনা করেছিলেন কবি ও গীতিকার জাভেদ আখতার (Javed Akhter)। সেজন্য শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’-য় তাঁর তীব্র সমালোচনা করা হয়। এবার ওই পত্রিকায় নিজে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন জাভেদ। তাতে তিনি বলেছেন, বিশ্বে হিন্দুরাই সবচেয়ে ভদ্র ও সহনশীল সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়। ভারতের অবস্থা কখনও আফগানিস্তানের মতো হবে না।

জাভেদ লিখেছেন, হিন্দুদের ডিএনএ-তেই রয়েছে মধ্যপন্থা। তারা রাস্তার মাঝখান দিয়ে চলতেই পছন্দ করে। পরে তিনি লিখেছেন, তালিবান যেমন ধর্মের ভিত্তিতে সরকার গঠন করতে চায়, ভারতেও হিন্দু দক্ষিণপন্থীরা চায় হিন্দু রাষ্ট্র। তালিবান মেয়েদের অধিকার খর্ব করতে চায়। এখানেও দক্ষিণপন্থীরা নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের প্রশংসা করে জাভেদ বলেন, তিনি কখনও বৈষম্য করতে পারেন না। আমি জানি না, কেউ কেউ কেন তাঁর সরকারকে তালিবান বলে।

গত সপ্তাহে শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’-র সম্পাদকীয়তে লেখা হয়, তালিবানের সঙ্গে আরএসএসের তুলনা করে অত্যন্ত ভুল কাজ করেছেন জাভেদ। ‘সামনা’-র বক্তব্য, গোমাংসকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় উন্মাদনায় সায় দেয়নি সংঘ। ভারতে হিন্দুত্বের নামে কোনও উন্মাদনা সৃষ্টি হয় না।

শিবসেনার বক্তব্য, হিন্দুত্বের নাম করে কোনও পাগলামি সহ্য করা হয় না। এর পরে কীভাবে বলা যায় যে, যারা হিন্দুরাষ্ট্র চায়, তারা তালিবানের সঙ্গে তুলনীয়? আমরা এমন তুলনার সঙ্গে একমত নই। ‘সামনা’-র সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও চিন তালিবানকে সমর্থন করতে পারে। কারণ তারা মানবাধিকার ও গণতন্ত্রকে কোনও মূল্য দেয় না। কিন্তু হিন্দুদের মানসিকতা তেমন নয়। আমরা অত্যন্ত সহনশীল।

পরে বলা হয়েছে, “আমাদের দেশে গণতন্ত্রের মুখোশ পরে কেউ কেউ একনায়কতন্ত্র কায়েম করতে চায়। কিন্তু তাদেরও ক্ষমতার সীমা আছে। সেজন্য আরএসএসের সঙ্গে তালিবানের তুলনা করা অত্যন্ত অনুচিত কাজ।” একইসঙ্গে বলা হয়েছে, “আমাদের দেশে হিন্দুরা সংখ্যাগুরু হওয়া সত্ত্বেও এখানে ধর্মনিরপেক্ষতার পতাকা ওড়ানো হয়। কিন্তু দেশের সংখ্যাগুরু মানুষ নিয়মিত অত্যাচারের শিকার হতে পারেন না।” এরপর জাভেদ আখতারের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছে, “আমরা কি ঠিক বলছি না?”

শনিবার মহারাষ্ট্রের বিজেপি বিধায়ক রাম কদম হুমকি দিয়ে বললেন, জাভেদ আখতার যদি আরএসএসের কাছে ক্ষমা না চান, তাহলে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন কোনও ফিল্ম দেখাতে দেওয়া হবে না।

বিধায়ক এদিন টুইট করে বলেন, “জাভেদ আখতারের বিবৃতি শুধু লজ্জাজনক নয়, তা সংঘ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও তাদের কোটি কোটি অনুগামীর কাছে দুঃখজনক ও আপত্তিকর।” বিধায়কের মতে, হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি সবচেয়ে দরিদ্র মানুষজনের স্বার্থে কাজ করে। জাভেদ আখতার তাদের অপমান করেছেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More