মৃত্যুপথযাত্রী যুবকের বীর্য সংগ্রহের পরেই মারা গেলেন তিনি, সন্তানধারণ করতে চেয়ে আদালতে গেছিলেন স্ত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড আক্রান্ত ৩২ বছরের যুবকের শরীর থেকে বীর্য সংগ্রহ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেলেন তিনি। বৃহস্পতিবার বদোদরার হাসপাতালে ঘটেছে এই ঘটনা।

৩২ বছরের ওই যুবক কোভিড-পরবর্তী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন। ইকমো সাপোর্টে ছিলেন। আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। এমনই সময়ে তাঁর স্ত্রী চেয়েছিলেন, স্বামীর সন্তানই গর্ভে ধারণ করবেন তিনি। অনুরোধ করেছিলেন বদোদরার হাসপাতালের চিকিৎসকদের। এর পরে দ্বারস্থ হন আদালতের আইভিএফ বা অ্যাসিস্টেড রিপ্রডাক্টিভ টেকনোলজির (এআরটি) মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহের আবেদন মঙ্গলবার মঞ্জুর করেছিল গুজরাত হাইকোর্ট।

সেইমতোই সবরকম নিয়ম ও বিধি মেনে গতকাল, বৃহস্পতিবারই রোগীর শরীর থেকে সংগ্রহ করা হয় বীর্য। ২৯ বছরের স্ত্রীর ইচ্ছে পূরণে এই বিরল ঘটনার সাক্ষী থাকে হাসপাতাল। তার কয়েক ঘণ্টা পরেই রাতে মারা গেলেন যুবক। তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে দেহ।

আবেদনকারী তরুণীর আইনজীবী  নিলয় পটেল জানান, তাঁর মক্কেল আইভিএফ বা এআরটি প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্তান পেতে চাইলেও, হাসপাতাল জানিয়ে দেয়, আদালত বীর্য সংগ্রহের নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ কাজ করা যাবে না। অচেতন কোনও মানুষের বীর্য সংগ্রহ আইনত অবৈধ। এজন্যই দ্রুত শুনানি চেয়ে ওই তরুণী আবেদন জানান হাইকোর্টে।

তরুণী হাইকোর্টে পিটিশন পেশ করে বলেন, তাঁর কোভিড ১৯ আক্রান্ত স্বামীর মাল্টি অর্গান ফেলিওর হয়েছে, তিনি লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমে বেঁচে আছেন। তাঁর জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার  সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা। কিন্তু তিনি স্বামীর স্মৃতি হিসেবে এবং নিজের ইচ্ছের কারণে সন্তানধারণ করতে চান এখনই। 

সন্তান লাভের বাসনাকে মর্যাদা দিয়ে হাইকোর্ট বলে, এটা অস্বাভাবিক জরুরি পরিস্থিতি। তাই জরুরি ভিত্তিতে পিটিশনের শুনানি করে গুজরাত হাইকোর্টের বিচারপতি আশুতোষ জে শাস্ত্রী ভদোদরার হাসপাতালকে আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) বা এআরটি পদ্ধতিতে ওই ব্যক্তির স্যাম্পল সংগ্রহ করে ডাক্তারি পরামর্শ অনুসারে যথাযথ জায়গায় সংরক্ষণ করতে বলেন।

এর পরেই সম্ভব হয় কার্যত বিরল এক ঘটনা। মৃত্যুপথযাত্রী স্বামীর বীর্য সংগ্রহ করে রাখা হয় স্ত্রীর জন্য। আর এই সংগ্রহ করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন স্বামী।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More