এলআইসিতে খোলা হাওয়া বইছে, ফুড অ্যাপ জোম্যাটোতে বিনিয়োগের কথা ভাবছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে অর্থনীতির খোলা হাওয়া বইতে শুরু করল রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থা লাইফ ইনশিওরেন্স কর্পোরেশনে। তারা সম্ভবত এবার ফুড অ্যাপ জোম্যাটোতে বিনিয়োগ করতে চলেছে। বাণিজ্য সংক্রান্ত সংবাদপত্র ‘মিন্ট’-এ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং বা আইপিও ছাড়তে চলেছে জোম্যাটো। এলআইসি সেই শেয়ার কিনতে পারে। সাধারণত এলআইসি-র মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা সেকেন্ডারি মার্কেট অর্থাৎ শেয়ার বাজার থেকেই শেয়ার কেনে। কিন্তু আইপিও কেনা মানে প্রাইমারি মার্কেটে হাত বাড়াচ্ছে এলআইসি।

গত কয়েক বছরে জোম্যাটো-র বৃদ্ধি হয়েছে ব্যাপক হারে। বিশেষত অতিমহামারীর সময়ে অনেকেই বাড়ির বাইরে বেরোতে চাইছেন না। তাঁরা ফুড ডেলিভারির জন্য ওই অ্যাপের উপরে নির্ভর করেছেন। জানুয়ারি মাসে কোম্পানির মূল্য ছিল ৫৪০ কোটি ডলার। অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি। জুন মাসে মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা।

ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং-এর মাধ্যমে জোম্যাটো ৯৩৭৫ কোটি টাকা তুলতে চায়। আগামী ১৪ জুলাই থেকে শেয়ার ছাড়বে ওই সংস্থা। তার দাম হবে ৭২ থেকে ৭৬ টাকার মধ্যে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থার এক কর্তার কথায়, “জোম্যাটোর আইপিও কেনার ব্যাপারে শীঘ্রই বৈঠকে বসবে এলআইসি-র বিনিয়োগ কমিটি। সেই বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” এলআইসি-র মুখপাত্র এ সম্পর্কে মুখ খোলেননি।

৩১ মার্চ শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে পাবলিক ট্রেডেড কোম্পানিগুলিতে এলআইসি-র হোল্ডিং ব্যাপক নেমে যায়। ২৯৬ টি কোম্পানিতে ওই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার হোল্ডিং ছিল ৩.৬৬ শতাংশ। ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে হোল্ডিং ছিল ৩.৭ শতাংশ।

জোম্যাটো অ্যাপের মাধ্যমে মানুষ নতুন নতুন রেস্তোরাঁর খোঁজ পান। খাবার অর্ডার করতে পারেন। রেস্তোরাঁয় টেবিল বুক করতে পারেন। খাবারের দাম মেটাতে পারেন। রেস্তোরাঁর খাবার ও পরিষেবা সম্পর্কে মতামতও লিখতে পারেন।

রেডসিয়ার ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্সির বক্তব্য, জোম্যাটো ২০২১ সালের মার্চে যে পরিমাণ খাবার বিক্রি করেছিল, তাতে বলা যায়, তারা ভারতে এক নম্বর ফুড সার্ভিসেস প্ল্যাটফর্ম। ২০২১ সালের আর্থিক বছরে প্রতি মাসে গড়ে ৩ কোটি ২১ লক্ষ মানুষ ওই অ্যাপ ব্যবহার করেছেন। দেশের ৫২৫ টি শহরে রয়েছে ওই কোম্পানি। তার তালিকায় আছে ৩ লক্ষ ৯০ হাজার রেস্তোরাঁ। রেডসিয়ারের মতে, তরুণ প্রজন্মের কাছে জোম্যাটো জনপ্রিয় তো বটেই, এখন বয়স্করাও ওই অ্যাপ ব্যবহার করছেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More