ঠাকুর দালানে নয়, দূর থেকেই দেখতে হবে বনেদি বাড়ির পুজো, বিধি মেনে প্রস্তুতি তুঙ্গে

দ্য ওয়াল ব্যুরো:‌ জোরকদমে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। ঝেড়ে মুছে চকচকে করে তোলা হয়েছে ঝাড়বাতি। নতুন রঙের প্রলেপে সেজে উঠছে ইতিহাসের গন্ধমাখা ঠাকুরদালানও। কিন্তু গতবছরের মতো এবছরও পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে কলকাতার বেশিরভাগ বনেদি বাড়ির পুজো (Banedi)। বাইরের দর্শকরা ঢুকতে পারলেও ঠাকুর দালানে উঠতে পারবেন না। নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে প্রতিমা দর্শন করতে হবে।

রথযাত্রা ও উল্টোরথের দিন কাঠামো পুজোর কাজ সারা হয়েছে। আজ, সোমবার থেকে পুজোর বাজারও শুরু হয়েছে বেশকিছু বাড়িতে। শোভাবাজার রাজবাড়ির বংশধর তীর্থঙ্কর দেব জানালেন, বড়, ছোট দু’‌বাড়িতেই পুজো হবে নিয়ম মেনেই। করোনার জন্য লোকজন কম, তাই প্রতিমার ওজন কমানো হচ্ছে। কাঠামো অনেক হালকা করা হয়েছে বিসর্জনের সময় কাঁধে নিয়ে যাওয়ার সুবিধার জন্য। প্রতিমা বাহক প্রায় ২০ জন লাগে প্রতিবার। বাহক সংখ্যা কমিয়ে দূরত্ববিধি বজায় রাখার জন্যই প্রতিমার ওজন কমানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: পুজোর আগে এপারের পাতে জুটবে ইলিশ, রফতানিতে ছাড় বাংলাদেশের

কৃষ্ণা নবমীর দিন থেকেই দেবীর বোধন শুরু হবে, চলবে ৪৫ দিন। কলাবউ স্নানে কোনও শোভাযাত্রা হবে না। ট্রলিতে করে বাগবাজার ঘাটে বিসর্জন হবে। পুজোর নৈবেদ্য ও ভাজা ভোগের জন্য ১৫–‌১৬ জন কারিগর আসতেন, এবার আনা হবে অল্প কয়েকজনকে।

ঘোষ বাড়ির পুজোও হবে দূরত্ববিধি মেনে। বংশের সদস্যরা সবাই মাস্ক পরে পুজো আয়োজনে যোগ দেবেন, জানালেন ওই পরিবারের সদস্য অর্ক ঘোষ। প্রতিমা এবার অনেক ছোট করা হয়েছে। কুমোরটুলিতে শিল্পী মূর্তি গড়ছেন। মহালয়ার দিন প্রতিমা ঠাকুরদালানে আসবে।

বড়িশা সাবর্ণ রায়চৌধুরি বাড়ির পুজোও হবে নিয়ম মেনে, তবে সবরকম জাঁকজমক এড়িয়ে। জন্মাষ্টমীতে হয় কাঠামো পুজো। সাবর্ণদের ৬টি পরিবার— সবাই মিলে ঠিক করেছেন এবছরও করোনা বিধি মেনে পুজো হবে। কুমারী পুজো হবে না। তবে বাইরের দর্শনার্থীরা ঠাকুর দালানে না উঠতে পারলেও প্রতিমা দর্শন করতে পারবেন বলে জানালেন পরিবারের সদস্য দেবর্ষি রায়চৌধুরী। সাবর্ণ রায়চৌধুরী বাড়ির পুজো মোট আটটি বাড়িতে হয়। এরমধ্যে ছ’‌টি বড়িশাতে।

বাগবাজারের হালদার বাড়ির দেবাশিস হালদার জানালেন, গতবছরের মতো এবছরও কোনও উৎসব হবে না। শুধু পুজো হবে। তবে এবছর সবার ডবল ভ্যাকসিন হয়েছে। তাই ভয় কম। পুজোর বাজার শুরু হয়েছে। বৃষ্টির জন্য ঠাকুরদালান রঙ করা যায়নি।


মধ্য কলকাতার অন্যতম প্রাচীন বনেদি পরিবার বসুমল্লিক বাড়ি। এই পরিবার, বাংলার অন্যতম সমাজ–সংস্কারক গোপীনাথ বসুর (পুরন্দর খাঁ) উত্তরপুরুষ। গোপীনাথ ছিলেন গৌড়ের সুলতান হুসেন শাহর উজির। সেই বাড়ির পুজোর আলাদা আকর্ষণ আছে কলকাতায়। সেই বাড়ির পুজোও এবার করোনা রীতি মেনেই ছোট করে হবে। এবছর বাইরের লোকজনকে তেমনভাবে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না, বলে জানিয়েছেন পরিবারের উত্তরপুরুষ সদস্য গৌতম বসুমল্লিক। আগেভাগে ক্ষমা চেয়ে নিয়েই তিনি জানান, কারও ভ্যাকসিন হয়েছে কী না, কারও জ্বর আছে কী না, দেখা সম্ভব নয়। কারণ তাঁদের লোকবল কম।

জোড়াসাঁকোর দাঁ বাড়ির পুজোও হবে অনাড়ম্বর ভাবেই। কলাবউ স্নান এবার বাড়ির উঠোনে সারা হবে। শোভাযাত্রা করে গঙ্গার ঘাটে যাওয়ার প্রথাটা বাদ দেওয়া হল এই অতিমারীর পরিস্থিতিতে। পুষ্পাঞ্জলিতে ফুলের ব্যবহার হবে না। হাতজোড় করে শুধু মন্ত্রোচ্চারণেই সারা হবে অঞ্জলি।


বেশিরভাগ বাড়ির সদস্যরাই জানিয়েছেন, আগে পুজোয় বিদেশ থেকে আত্মীয়েরা আসতেন। পুজোটা তাঁদের কাছে ছিল মেয়ের বিয়ের মতো। আত্মীয়, পরিচিত আর প্রতিবেশীদের নিয়ে চার দিনের পঙ্‌ক্তিভোজন এ বার বন্ধ। আসেননি ভিয়েনরাও। তবে তাঁদের আশা, সময়ের চাকা নিশ্চয় ঘুরবে। আগামী বছর হয়ত আবার আগের মতো হইচই করে পুজো হবে!

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More