কোভিডের অজুহাতে ভারতের রফতানি করা চিংড়ি ফেরাল চিন, শুরু রাজনৈতিক বিরোধ

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিশ্বে চিংড়ি রফতানিতে এক নম্বর স্থানে আছে ভারত। এদেশ থেকে যারা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে সামুদ্রিক খাদ্য আমদানি করে, তাদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে আছে চিন। সেখান থেকে এবার বিপুল পরিমাণ ভারতের রফতানি করা চিংড়ি খাবার অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে। চিনের বক্তব্য, চিংড়িগুলি যে কন্টেনারে পাঠানো হয়েছিল, তাতে মিলেছে করোনাভাইরাস। চিনের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে ভারত। রফতানি করা চিংড়ি বাতিল করায় ভারত ও চিনের মধ্যে একদফা কূটনৈতিক লড়াই শুরু হতে চলেছে।

ভারত থেকে চিন যে পরিমাণ সামুদ্রিক খাদ্য আমদানি করে, তার ৪৬ শতাংশই চিংড়ি। মূলত গুজরাত, ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে চিনে চিংড়ি রফতানি হয়। গতবছর নভেম্বরে চিন বলেছিল, তারা ভারতের চিংড়ির ওপরে কিছু বিধিনিষেধ জারি করেছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংশ্লিষ্ট দফতরে জানানোও হয়েছে সেকথা। কিন্তু চিংড়ি নিয়ে দুই দেশের বিরোধ চরমে ওঠে সপ্তাহখানেক আগে। ভারত থেকে পাঠানো চিংড়ির হাজারটি কন্টেনার বাতিল করে চিন। তারা বলে, কন্টেনারের বাইরে, পলিথিন ও করোগেটের গায়ে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গিয়েছে।

ভারত থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে, কন্টেনারের বাইরে কীভাবে করোনাভাইরাস থাকতে পারে? যে পরীক্ষার মাধ্যমে কন্টেনারের বাইরে ওই ভাইরাসের অস্তিত্ব জানা গিয়েছে, তা দেখতে চেয়েছে ভারত। কিন্তু চিন থেকে সেই রিপোর্ট দেখানো হয়নি।

এরপরে ভারতের মেরিন প্রোডাক্টস এক্সপোর্ট ডেভলপমেন্ট অথরিটি, বাণিজ্যমন্ত্রক ও বিদেশমন্ত্রক যৌথভাবে চিনের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাণিজ্যের বিধিভঙ্গের জন্য চিনের বিরুদ্ধে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় অভিযোগ জানানো হবে বলে স্থির হয়েছে।

গতবছর থেকে লাদাখ সীমান্ত নিয়ে চিনের সঙ্গে বিরোধ চলছে ভারতের। তার সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে বাণিজ্যিক বিরোধ। গত বছরের অনেকটা সময় ধরে সংঘাত চলার পরে এ বছরের গোড়া থেকে সামান্য স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি। দুই দেশই সেনা সরাতে শুরু করে। তবে বিরোধীদের তরফে বারবারই অভিযোগ উঠেছে, চিন ভারতের জমি দখল করে নিয়েছে। রাহুল গান্ধী সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, “ভারতের ভূখণ্ড চিনের হাতে তুলে দিয়েছেন মোদী।”

এবছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ১০ তারিখ থেকে লাদাখ সীমান্তে সেনা সরানো শুরু হয়েছে। সেনাপ্রধান এমএম নারাভানে জানিয়েছেন, প্যাংগং লেকের উত্তর, দক্ষিণ থেকে এবং কৈলাস রেঞ্জ থেকে সেনাবাহিনী নিজের নিজের ঘাঁটিতে ফিরে গিয়েছে। লাইন এফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে এখন শান্তি রয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More