মোদী বন্দনায় মেতেছে বিজেপি করোনা টিকাকরণে দেশ ১০০ কোটির লক্ষ্য ছুঁতেই

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার টিকাকরণে (Vaccine) ইতিহাস তৈরি হল ভারতে। চিনের পরেই বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে টিকাকরণে ১০০ কোটির মাইলফলক পেরিয়ে গেল ভারত। গত ১৬ জানুয়ারি দেশে করোনার টিকাকরণ পর্ব শুরু হওয়ার পর থেকে গতকাল ২০ সেপ্টেম্বর অবধি দেশে টিকাকরণ হয়েছে ১০০ কোটি, যা বিশ্বের বৃহত্তম টিকাকরণ কর্মসূচীতে অন্যতম নজির গড়েছে। টিকা দানে ভারতের সাফল্য তুলে ধরতে আজই লালকেল্লায় বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবিয়া সকাল থেকেই টুইটের পর টুইট করে দেশের গবেষক, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও কোভিড-যোদ্ধাদের শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। টুইট করে মোদীকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন বিজেপি নেতা -নেত্রীরা। বেশ কিছু দেশও ভারতের সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছে। মিলিয়ে মোদী বন্দনায় মেতেছে বিজেপি।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যাণ বলছে, গত ৬ অগস্টের মধ্যে ৫০ কোটি টিকাকরণ শেষ হয়েছিল দেশে। তারপর ৭৬ দিনের মধ্যে ১০০ কোটির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৭১তম জন্মদিনের দিনেই টিকাকরণে নজির গড়েছিল ভারত। একদিনে আড়াই কোটির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছিল। কো-উইন পোর্টালের তথ্য বলছে, এই দশ মাসে ১০০ কোটি মানুষকে টিকার অন্তত ফার্স্ট ডোজ দেওয়া শেষ হয়েছে। গতকাল রাত ১১টা অবধি কোউইনের ডেটা বলছে মোট ৯৯.৭ কোটি টিকাকরণ হয়েছে ভারতে। এর মধ্যে ৭৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক টিকার ফার্স্ট ডোজ ও ৩১ শতাংশ দুটি ডোজই পেয়েছেন।

দেশে টিকাকরণে বিপুল সাফল্যে উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী টুইটে লিখেছেন, “ভারত ইতিহাস তৈরি করল। বিজ্ঞানের জয় দেখলাম আমরা। ১৩০ কোটি দেশবাসীর সম্মিলিত প্রয়াস ও একতায় ১০০ কোটি টিকাকরণের লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ হল। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং এই বিশাল কর্মযজ্ঞে সামিল সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।”

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবিয়া বলছেন, টিকাকরণের ঐতিহাসিক জার্নি স্মরণীয় করে রাখতে লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। তাছাড়া দেশের প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে টিকাকরণে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করার জন্য আরও জোরকদমে প্রচার চলবে। গ্রামগুলিতে ১০০ শতাংশ টিকাকরণ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মতো দেশনেতার কারণেই ভারত আজ টিকাকরণে বিশ্বের শীর্ষে পৌঁছেছে, এমনটাই বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। টুইট করে তিনি লিখেছেন, “ঐতিহাসিক ও গর্বের দিন ভারতের। আজ টিকাকরণে ১০০ কোটির টার্গেট পূরণ হল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মতো নেতার অনুপ্রেরণাতেই এটা সম্ভব হয়েছে। নতুন ভারতের ক্ষমতা ও দক্ষতা সারা বিশ্বের দরবারে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হল।”

কোভিড টিকাকরণের গতি সেপ্টেম্বরের পর থেকে আরও বাড়বে বলেই দাবি করেছিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। একগুচ্ছ বিদেশি ভ্যাকসিনেও ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। দুই বছর বয়সের ওপরে শিশুদের টিকার ট্রায়াল শুরু হয়ে গেছে। ২৮ মে থেকে শিশু ও কমবয়সীদের শরীরে দেশের তৈরি কোভ্যাক্সিন টিকার ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে। তিন ক্যাটেগরিতে ভাগ করে বাচ্চাদের ওপর টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে। ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন টিকায় ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় প্যানেল। ড্রাগ কন্ট্রোলের অনুমতি পেলে খুব তাড়াতাড়ি শিশুদের জন্যও ভ্যাকসিন চলে আসতে পারে দেশে। তাছাড়া অন্যান্য কোম্পানিগুলির মধ্যে বায়ো-ই, নোভাভ্যাক্স, সেরাম ইনস্টিটিউটের কোভাভ্যাক্স, ভারত বায়োটেকের ন্যাজাল ভ্যাকসিন, জেনোভা এমআরএনএ-র ভ্যাকসিন নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। বায়ো-ই তে জনসন অ্যান্ড জনসনের ভ্যাকসিন তৈরি হওয়ার কথা চলছে। সেই ভ্যাকসিনডিসেম্বরের মধ্যে আসার কথা রয়েছে। মাসে পাঁচ কোটি করে ডোজ তৈরি হওয়ার পরিকল্পনাও আছে।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.