দিল্লি দাঙ্গার তদন্তে অবহেলার জন্য পুলিশকে তিরস্কার করেছিলেন বিচারক, বদলি হলেন তিনি

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো : দিল্লি দাঙ্গার তদন্তকে প্রহসনে পরিণত করেছে পুলিশ। গত সেপ্টেম্বর মাসে এমনই মন্তব্য করেছিলেন দিল্লির এক নিম্ন আদালতের বিচারক বিনোদ যাদব (Binod Yadav)। তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনায় তদন্তে গাফিলতি হলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বুধবার জানা গেল, তাঁকে রাজধানীরই অপর একটি আদালতে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, কারকারদুমা ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের অতিরিক্ত দায়রা বিচারপতি বিনোদ যাদবকে রুজ এভিনিউ কোর্টে বিশেষ বিচারক হিসাবে বদলি করা হয়েছে।

বদলি হওয়ার আগের দিনই পুলিশের কড়া সমালোচনা করেছিলেন বিচারক বিনোদ যাদব। তিনি বলেন, পুলিশের সাক্ষী শপথ নিয়ে মিথ্যা কথা বলছেন। তাঁর সাক্ষ্যে স্ববিরোধিতা রয়েছে। এ বিষয়ে বিচারক ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (উত্তর-পূর্ব)-এর রিপোর্ট চেয়ে পাঠান।

গত সেপ্টেম্বরে বিচারক বিনোদ যাদব বলেন, “দেশভাগের পরে ২০২০ সালেই দিল্লিতে সবচেয়ে সাংঘাতিক দাঙ্গা হয়েছে। সেই দাঙ্গার যথাযথ তদন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ।” এরপর আম আদমি পার্টির প্রাক্তন বিধায়ক তাহির হুসেনের ভাই শাহ আলমকে মুক্তি দেয় কোর্ট। অভিযোগ করা হয়েছিল, তিনি দাঙ্গার সময় দিল্লির চাঁদ বাগ এলাকায় দোকান ভাঙচুর ও লুঠপাটে জড়িত ছিলেন। কিন্তু এই অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

বিচারক বলেন, শাহ আলমের বিরুদ্ধে তদন্তে পুলিশ অপদার্থতা ও কুঁড়েমির পরিচয় দিয়েছে। মনে হচ্ছে এক পুলিশ কনস্টেবলকে সাক্ষী সাজানো হয়েছিল। বিচারকের মতে, দিল্লি দাঙ্গার তদন্তের নামে পুলিশ করদাতাদের বিপুল অর্থ খরচ করেছে। কিন্তু তদন্তের নামে কোর্টের চোখে ধুলো দেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনও উদ্দেশ্য ছিল না।

বিচারক মন্তব্য করেন, শাহ আলম যে লুঠপাট ও ভাঙচুরে জড়িত ছিলেন, তা সিসিটিভি ফুটেজ থেকে প্রমাণিত হয়নি। কোনও সাক্ষীই বলেননি যে, আপ নেতার ভাই ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন।

বিচারকের কথা, “আমি যে কথা না বলে পারছি না, তা হল আগামী দিনে মানুষ যখন দিল্লি দাঙ্গার ইতিহাস পড়বে, তখন তারা জানতে পারবে, তদন্তকারী সংস্থা যথাযথ তদন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছিল।” বিচারকের মতে, পুলিশ স্রেফ চার্জশিট দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে। কোনও সাক্ষী বা প্রকৃত অপরাধীকে খুঁজে বার করার চেষ্টা করেনি।

গত কয়েক মাসে বিচারক বিনোদ যাদব একাধিকবার বলেছেন, দিল্লি দাঙ্গা নিয়ে তদন্তে পুলিশ কমিশনার রাকেশ আস্থানার হস্তক্ষেপ করা উচিত। দিল্লি দাঙ্গা নিয়ে একটি মামলায় বিচারক মন্তব্য করেন, এক্ষেত্রে তদন্তের মান ছিল খুবই নিচু।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.