কলকাতায় উপসর্গহীন করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, কী উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত সপ্তাহে হাঁটুর সার্জারির জন্য কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালে ভর্তি হন ৭০ বছরের এক বৃদ্ধ। ডাক্তারবাবুরা বলেন, অস্ত্রোপচারের আগে পরীক্ষা করে দেখা যায় বৃদ্ধ কোভিড পজিটিভ (Covid)। অথচ জ্বর, সর্দি-কাশি বা করোনার অন্যান্য পরিচিত লক্ষণ তাঁর শরীরে ছিল না। তিনি ছিলেন উপসর্গহীন করোনা রোগী বা অ্যাসিম্পটোমেটিক (Asymptomatic)। গত বছর মে মাস নাগাদ দেশে উপসর্গহীন রোগীদের সংখ্যা বেড়েছিল। এ বছর অগস্টে দেশজুড়ে সেরো সার্ভের রিপোর্টে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) দাবি করেছিল, অ্যাসিম্পটোমেটিক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে দেশে। এখন এ শহরেও (Kolkata) তা দেখা যাচ্ছে। উপসর্গহীন রোগীদের থেকে রোগ ছড়াবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমরি হাসপাতালের রিপোর্টেও বলা হয়েছে, উপসর্গ নেই এমন করোনা রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। অন্য কোনও রোগের চিকিৎসা বা সার্জারি করাতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরে ধরা পড়ছে তাঁরা কোভিড পজিটিভ। গত দু’সপ্তাহে যত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তার ৫ শতাংশই উপসর্গহীন করোনা রোগী বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

আরএন টেগোর ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিয়াক সায়েন্সের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সৌরেন পাঁজা বলেছেন, হয় উপসর্গহীন বা মৃদু উপসর্গের করোনা রোগী বেশি দেখা যাচ্ছে। এমন দেখা গেছে, ভাইরাল লোড কম যে রোগীর শরীরে তার থেকে যখন সংক্রমণ ঢুকেছে অন্যজনের শরীরে, তাঁর আর রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়নি। অথচ ভেতরে সংক্রমণ রয়েছে। কখনও বা হাল্কা সর্দি-কাশি হতে দেখা গেছে। এই ধরনের উপসর্গহীন রোগীদের থেকে সংক্রমণ ছড়াবার সম্ভাবনা অনেক বেশি। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যেই অ্যাসিম্পটোম্যাটিক বা উপসর্গহীন করোনা রোগীদের খোঁজ বেশি মিলেছে। আইসিএমআর তাদের সমীক্ষায় জানিয়েছিল, দেশে উপসর্গহীনদের সংখ্যা ৬৯-৮০ শতাংশের মধ্যে। গত বছর মে মাসেই ৪০ হাজার করোনা রোগীকের শনাক্ত করা হয়েছিল যাদের শরীরে সংক্রমণের কোনও লক্ষণ ছিল না।

Coronavirus | In Kolkata, IMCT raises questions on tests, ventilator facility - The Hindu

উপসর্গহীন রোগীদের ধরতে রাজ্যে সেন্টিনেল সার্ভিল্যান্স শুরু করেছে সরকার

কোভিডের তৃতীয় ঢেউ আসন্ন। সেকেন্ড ওয়েভের মতো থার্ড ওয়েভও প্রাণঘাতী হবে কিনা সে চিন্তাই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বার বার বলছেন, কোভিড সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে হলে টেস্ট ও কনট্যাক্ট ট্রেসিং বাড়াতে হবে। জেলায় জেলায় করোনা পরীক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে। খুঁজে বের করতে হবে উপসর্গহীন রোগীদের। সেই চেষ্টাতেই ‘সেন্টিনেল সার্ভিল্যান্স’ শুরু করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।

‘সেন্টিনেল সার্ভিল্যান্স’ হল সঠিক উপায় নিয়ম বেঁধে প্রতি জেলার একটি নির্দিষ্ট হাসপাতাল থেকে কোভিড রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা। এর জন্য ২৮টি জেলা থেকে একটি করে হাসপাতাল বেছে নেওয়া হয়েছে। কলকাতা থেকে বাছা হয়েছে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজকে। এই উপায় কোভিড টেস্ট করলে জেলাভিত্তিক সংক্রমণের হার বোঝা যাবে। একই সঙ্গে কোভিড পজিটিভিটি রেট কোন জেলায় কতটা বাড়ছে বা কমছে, তারও সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

সেন্টিনেল সার্ভিল্যান্সের আরও একটা উদ্দেশ্য হল উপসর্গহীন বা অ্যাসিম্পটোমেটিক কোভিড রোগীদের খুঁজে বের করা। সংক্রমণের উপসর্গ না থাকায় বহু রোগীই অধরা থেকে যাচ্ছে, তাঁদের থেকে আবার সংক্রমণ অনেকের মধ্যে ছড়াচ্ছে। এইভাবে সংক্রমণের শৃঙ্খল তৈরি হচ্ছে যার জন্যই কোভিড গ্রাফ মাঝে মাঝেই ঊর্ধ্বে উঠে যাচ্ছে। দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। রাজ্যে এখন করোনা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে, এমন পরিস্থিতিতে সংক্রমণ ঠেকাতে করোনা পরীক্ষার ওপরেই বেশি জোর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। সে কারণেই এই সেন্টিনেল সার্ভিল্যান্সের উদ্যোগ।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা সুখপাঠ

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More