আট বছর পার, এখনও ভাঙাভাঙিতে থমকে রাইটার্সের সংস্কার, বসছে না কমিটির বৈঠকও

0

রফিকুল জামাদার

২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রধান সচিবালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু দফতর মহাকরণ (Writers Building) থেকে সরিয়ে আনেন নবান্ন-তে। মহাকরণের অন্য কয়েকটি দফতর নিউ সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিং এবং বিধাননগর, আলিপুর প্রভৃতি জায়গার কিছু সরকারি ভবনে স্থানান্তরিত হয় (Kolkata)।

গভীর রাতে গাড়ি ঘিরে ধরে ব্যবসায়ীকে গুলি কলকাতায়

ঐতিহ্যপূর্ণ রাইটার্স বিল্ডিংসের পর্যাপ্ত সংস্কার ও সংরক্ষণে আগ্রহী হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সংস্কারের কাজ চলছে।

এর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৈরি করেন একটি স্ট্রেয়ারিং কমিটি। ওই কমিটি মুখ্যসচিবকে মাথায় রেখে করা হয়। কমিটিতে মুখ্যসচিব ছাড়াও রাখা হয় পূর্ত দফতরের সচিবকেও। এছাড়াও কমিটিতে রাখা হয় আইআইটি খড়্গপুর, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দলকে।

সূত্রের খবর, প্রাক্তন মুখ্যসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায় এই স্ট্রেয়ারিং কমিটির কয়েকটি বৈঠক করেন। পরবর্তীকালে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমিটির বৈঠক তেমনভাবে আর হয়নি৷

সূত্রের আরও খবর, মলয় দে যখন মুখ্যসচিব ছিলেন তখন দু’একটা বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকের পর আর কোনও বৈঠক হয়েছে কিনা, তা সামনে আসেনি।

এখন প্রশ্ন তাহলে রাইটার্স বিল্ডিংস সংস্কারের কাজ কতদূর?

এক কথায় বলতে গেলে শুরুতে রাইর্টাসের ভেতরে ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে বটে। তবে এখনও ভাঙার কাজ চলছে। মুখ্যমন্ত্রী যেখানে বসতেন সেই ঘরও ভাঙা হয়েছে। তবে ওই ভাঙার কাজ পর্যন্তই হয়েছে। এর বেশি আর কাজ এগোয়নি। পূর্ত দফতরের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাইর্টার্সে ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্য ফিরিয়ে দিতে ভাঙার কাজের জন্য টেন্ডার হয়েছে। কিন্তু তা নতুন করে গড়ার টেন্ডার এখনও হয়নি।

এদিকে প্রধান সচিবালয় থেকে দফতর নবান্ন-সহ কয়েকটি সরকারি ভবনে শিফট হলেও বেশ কয়েকটা এখনও রাইটার্সে রয়ে গেছে।

যেমন ধরা যাক অর্থ দফতর, নবান্নে শিফট হলেও ওই দফতরের একটা অংশ রাইটার্সে এখনও আছে। ঠিক একই ভাবে পূর্ত দফতরের ক্ষেত্রেও সেই কথা প্রযোজ্য। এছাড়াও মাইনরিটি ডিপার্টমেন্ট, রাজ্য ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর-সহ বেশ কয়েকটি দফতর রাইর্টাসে রয়ে গিয়েছে।

সেক্ষেত্রে ওই সব দফতর তাদের কাজের জন্য দফতরের নিজস্ব বাজেট থেকে কিছু কিছু কাজ করাচ্ছে এই মুহূর্তে। যেমন রঙ করা থেকে শুরু করে চেয়ার টেবিল কেনা ইত্যাদি।

এক আধিকারিকের কথায় রাইর্টাসের সম্প্রসারণে শুরুতে যেভাবে কাজ শুরু হয়েছিল বছর ঘুরতে না ঘুরতে সেই কাজের গতি অনেক কমে গেছে।

সূত্রের দাবি, এর কারণ হল সরকারের কোষাগারে অর্থের অভাব। সরকারের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প চলছে তাতে হাজার হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।

সব মিলিয়ে রাইর্টাস আদৌ কবে মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আবার সেই ব্রিটিশ আমলের চিত্রে ফিরবে তা এখনই পরিষ্কার নয়।

এ বিষয়ে পূর্ত দফতরের এক পদস্থ ইঞ্জিনিয়ারকে ফোন করা তো হলে তিনি দ্য ওয়ালকে বলেন, রাইটার্সের কাজ কিছু হয়েছে ও কিছু কাজ চলছে। তবে এর বেশি আর কিছু বলতে চাননি ওই ইঞ্জিনিয়ার।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.