দুরন্ত গতিতে ছুটে চাষিদের ধাক্কা মারছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এসইউভি, লখিমপুরের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে হইচই

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্টিয়ারিংয়ে নিয়ন্ত্রণ নেই চালকের। হুড়মুড়িয়ে বিক্ষোভকারীদের জমায়েতে ঢুকে পড়ছে একটি এসইউভি। এটি নাকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রেরই মাহিন্দ্রা থর, সেটা নিশ্চিত করা গেছে। যে লোকজনকে ধাক্কা দিচ্ছে গাড়িটি তাঁদের হাতে কোনও অস্ত্র নেই। এমন একটি ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। আর সেটি দেখেই লখিমপুরের (Lakhimpur) ঘটনা নিয়ে ফের তুমুল হইচই শুরু হয়ে গিয়েছে।

লখিমপুরে বিক্ষোভরত কৃষকদের চাপা দিয়ে খুন করেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলে, এমন অভিযোগ ওঠার পরেই জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে। ঘটনাকে ঘিরে রণক্ষেত্র যোগী রাজ্যের লখিমপুরের খেরি এলাকা। কৃষক মৃত্যুকে ঘিরে হিংসার জেরে দেশব্যাপী প্রতিবাদ আলোড়নের জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট অবধি। দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্বতঃপ্রণোদিত (suo moto case) হয়ে হিংসার ঘটনা বিচার করে দেখতে মামলার শুনানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবারই এই মামলার শুনানি।

ভাইরাল ভিডিও কতটা সত্যি তা যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে, এই ভিডিওতে যে গাড়িটিকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুরন্ত গতিতে ভিড়ের মধ্যে ঢুকতে দেখা যাচ্ছে সেটি নাকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রেরই গাড়ি। আরও দেখা গেছে, গাড়িটিতে কোনওরকম হামলা চালানো হয়নি। গাড়িটি যাদের পিষে দিচ্ছে তাদের হাতে কোনও অস্ত্র নেই। ঘটনার পরেই দাবি করা হয়েছিল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর গাড়িতে ইট, পাথর ছোড়ে বিক্ষোভকারী চাষিরা। ইটের ঘায়ে মাথায় চোট পেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান চালক। এই কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে যায়।

রবিবারের হিংসায় ৯ জনের মৃত্যু গোটা দেশকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রের এসইউভির তলায় চাপা পড়ে অন্তত চারজন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। বিরোধী দলগুলির পাশাপাশি প্রতিবাদী কৃষকদের দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রের ছেলে আশিস মিশ্র কৃষকদের ওপর দিয়ে গাড়ি চলে যাওয়ার সময় তার ভিতরেই ছিলেন। যদিও মন্ত্রীর ছেলে অভিযোগ খারিজ করেছেন। তাঁরা ঘটনাস্থলে ছিলেনই না বলে দাবি করেছেন উভয়েই।

মিডিয়ার সামনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও তাঁর ছেলে দাবি করেছেন, তাঁদের কনভয় যাচ্ছিল রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্যকে অভ্যর্থনা জানাতে। লখিমপুর পৌঁছনোর আগেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি ছিল সেখানে। বহু মানুষের জমায়েত ছিল। তাঁদের গাড়ি দেখেই পাথর ছুড়তে শুরু করে কয়েকজন। গাড়ি ঘিরে ফেলে তারা। ইট, পাথরের ঘায়ে গুরুতর জখম হন ড্রাইভার হরিওম মিশ্র। মাথা ফেটে রক্ত বের হতে থাকে তাঁর। স্টিয়ারিংয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন তিনি। যারা পাথর ছুড়ছিল তাদের গিয়ে ধাক্কা মারে গাড়ি।

সেদিনের পর থেকে বিরোধী নেতারা লখিমপুর যেতে চাইলেও অনুমতি দিতে নারাজ উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন। সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গাঁধীকে লখিমপুর যাওয়ার পথে সীতাপুরে আটকে দেয় পুলিশ। বুধবার রাহুল গাঁধী, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল, পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চরণজিত চান্নিকে লখনউ বিমানবন্দর থেকে লখিমপুর যেতে দেওয়া নিয়ে একপ্রস্থ নাটক হয়। তুমুল বাকবিতন্ডার পর তাঁরা অনুমতি পান। বুধবার রাতে উত্তরপ্রদেশের  লখিমপুর খেরিতে পৌঁছন রাহুল, প্রিয়াঙ্কা, বাকিরা। দুপুরে বিমানবন্দরে বাধা পেয়ে রাহুল বলেন, এখানে  একসময় গণতন্ত্র ছিল, কিন্তু ভারতে এখন একনায়কতন্ত্র চলছে। রাজনীতিকরা উত্তরপ্রদেশ যেতে পারছেন না।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.