আইন তার নিজের পথে চলবে, দিল্লিতে ট্র্যাক্টর মিছিলে হিংসা নিয়ে বললেন মোদী

1

দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লিতে কৃষকদের ট্র্যাক্টর মিছিলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার সর্বদলীয় বৈঠকে সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বললেন, “আইন তাঁর নিজের পথে চলবে।” বিরোধীদের বক্তব্য, কৃষকদের মিছিলে বাইরের লোকজন ঢুকে গন্ডগোল করেছিল। কৃষকরাও একই অভিযোগ করেছেন। তাঁরা বলেন পাঞ্জাবের গায়ক অভিনেতা দীপ সিধুর নেতৃত্বে একদল লোক লালকেল্লায় ঢুকে পড়েছিল। অভিনেতা তাঁদের সংগঠনের কেউ নন।

প্রজাতন্ত্র দিবসের পরে দিল্লি সীমান্তে সিংঘু, গাজিপুর এবং টিকরিতে কৃষকদের অবস্থানস্থলে এখনও উত্তেজনা রয়েছে। ওই সব অঞ্চলে বিপুল সংখ্যায় নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার বলেছিল, গাজিপুর থেকে কৃষকদের তুলে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করা হবে। তখন বিকেইউ নেতা রাকেশ টিকায়েত বলেন, তিনি বুলেটের সামনে বুক পেতে দিতে তৈরি। তাঁর আহ্বানে ফের গাজিপুরে হাজার হাজার কৃষক জড়ো হন। সিংঘু ও টিকরিতেও অনেক কৃষক নতুন করে যোগ দিয়েছেন। কৃষকরা যাতে দিল্লি ঢুকতে না পারেন, সেজন্য রাস্তা কেটে দিয়েছে পুলিশ।

শনিবার বিকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ঘোষণা করেছে, সিংঘু, গাজিপুর ও টিকরি অঞ্চলে এদিন রাত ১১ টা থেকে ৪৮ ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে।

এদিন সর্বদলীয় বৈঠকে মোদী জানান, সরকার খোলা মনে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলতে চায়। জানুয়ারির শুরুতেই বলা হয়েছে, কৃষি আইনগুলি সরকার দেড় বছরের জন্য স্থগিত রাখতে রাজি আছে। সেই প্রস্তাব এখনও ফিরিয়ে নেওয়া হয়নি।

কৃষক নেতারা এর আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা আইনগুলি দেড় বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাবে রাজি নন। তাঁরা চান সরকার অবিলম্বে তিনটি কৃষি আইন বাতিল করুক। এর মধ্যে গত ২৬ জানুয়ারি দিল্লিতে কৃষকদের ট্র্যাক্টর মিছিলকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল।

মোদী বলেছেন, এই অচলাবস্থা কাটাতে সরকার ফের বৈঠকে বসতে তৈরি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি এদিন বলেন, “সর্বদলীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, সরকার খোলা মনে কৃষকদের দাবিদাওয়ার কথা বিবেচনা করছে। গত ২২ জানুয়ারি সরকার যে অবস্থান নিয়েছিল, এখনও তা থেকে সরে আসেনি।”

এরপরেই প্রহ্লাদ যোশি বলেন, “কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর কৃষক নেতাদের যা বলেছিলেন, এদিন তারই পুনরাবৃত্তি করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, কৃষকরা একবার ফোন করলেই সরকার তাঁদের সঙ্গে কথা বলবে।” সরকার এখনও পর্যন্ত ১১ বার কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে। শেষবারের বৈঠকের পরে কৃষিমন্ত্রী বলেছিলেন, “বল এখন কৃষকদের কোর্টে।”

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.