ত্রিপুরা সংগঠনকে বার্তা অভিষেকের, বাম-কংগ্রেসের অস্তিত্ব নেই, ভরসা দিদিই

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জুলাই মাস থেকে উত্তর-পূর্বের ছোট্ট রাজ্যটিতে (Tripura) দৌত্য শুরু করেছে তৃণমূল। অগস্টের প্রথম সপ্তাহে আগরতলা গিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বলেছিলেন, শীঘ্রই নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণা হবে। মহালয়ার দিন ত্রিপুরার জন্য রাজ্য স্টিয়ারিং কমিটি ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ শুক্রবার এই কমিটির সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৈঠকে অভিষেক বলেন, ” কংগ্রেস ১-১০% এর পার্টি হয়ে গেছে। রোজ চারটে করে ইস্তফা দিচ্ছে। বাম-কংগ্রেসকে ভোট দেওয়া মানে ভোট নষ্ট করা।”  তাঁর বক্তব্য, সিপিএম মাঠে নেই, ময়দানে নেই, ভোটেও নেই। পুরোপুরি বসে পড়েছে। আর কংগ্রেস অস্তিত্বহীন। বিজেপিকে যদি হারাতে হয়, তাহলে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের হাত শক্তিশালী করতে হবে৷

ত্রিপুরায় স্টিয়ারিং কমিটির মাথা করা হয়েছে, কংগ্রেস, বিজেপি করে আসা নেতা সুবল ভৌমিককে। মোট ১৯ জনের কমিটি করা হয়েছে। এই স্টিয়ারিং কমিটিতে রয়েছেন অসমের ভূমিকন্যা তথা রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব। তা ছাড়া আরও পাঁচ মহিলা রয়েছেন নতুন কমিটিতে। সংখ্যালঘু, বাঙালি, জনজাতি—সমস্ত অংশের প্রতিনিধিকেই রেখেছেন মমতা। তা ছাড়া ত্রিপুরার জেলাগুলির ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পরে বলেছিলেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে তৃণমূলের বিস্তার ঘটানোই তাঁর লক্ষ্য। শুধু তাই নয়। অভিষেক এও বলেছিলেন, যে রাজ্যে তৃণমূল ইউনিট খুলবে সেখানে চার-পাঁচটা বিধায়ক জেতা বা পাঁচ-ছয় শতাংশ ভোট পাওয়ার জন্য যাবে না। সরকার গঠনের জন্যই যাবে। গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা লুইজিনহো ফেলারিও যেদিন তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন সেদিনও অভিষেক বলেছিলেন, “গত সাত বছরে বিরোধী পরিসরে কংগ্রেসের যে ভূমিকা নেওয়া উচিত ছিল তা তারা পারেনি। আমাদের পার্টি কেবল টুইটারে নেই। আমরা রাস্তায় রয়েছি। আর কংগ্রেস সেই রাস্তার লড়াইটাই ছেড়ে দিয়েছিল।”

অভিষেকের আজকের বক্তব্যের পরে ত্রিপুরা সিপিএমের এক মুখপাত্র বলেছেন, অভিষেক ভুলে যাচ্ছেন সিপিএমের রাজ্য দফতর দশরথ দেব স্মৃতি ভবনে যখন আগুন লাগানো হয়েছিল তখন বিরোধী দলনেতা মানিক সরকারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। সিপিএম দফতরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের যাওয়া নিয়ে প্রবীণ সিপিএম নেতা পবিত্র কর বলেছিলেন, গণতন্ত্রে তো এটাই কাম্য। যে একজনের পাশে আরেকজন দাঁড়াবে। এইসবের পরে কী করে অভিষেক বলতে পারেন যে ত্রিপুরায় সিপিএম নেই, মাঠে-ময়দানে এমনকি ভোটেও নেই। সিপিএম আছে বলেই তাদের ওপর হিংসার ঘটনা ঘটে চলেছে।

পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, অভিষেকদের এ হেন মন্তব্যের নেপথ্যে সুচিন্তিত কৌশল রয়েছে। চব্বিশের লোকসভা ভোটের আগে বাংলার মানুষের কাছে তাঁরা এটাই তুলে ধরতে চাইছেন যে দিল্লিতে ক্রমশ বিকল্প হয়ে উঠছে তৃণমূল। অর্থাৎ শুধু বাংলায় নয়, সর্বভারতীয় রাজনীতিতে বিজেপিকে একমাত্র তৃণমূলই রুখে দিতে পারে। সেই আস্থার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই সুস্মিতা দেব, লুইজিনহো ফেলেইরোর মতো ভিন রাজ্যের কংগ্রেসি নেতারাও তৃণমূলের ছাতার তলায় আসতে চাইছেন। এই ছাতার মধ্যে অচিরে আরও কংগ্রেসি নেতা আসতে পারেন।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.