লর্ড ক্যানিংয়ের বাড়ি ধ্বংসের মুখে! সংস্কারেও বাঁচবে কি ইতিহাস, দেখুন ভিডিও

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লর্ড ক্যানিং, যে ব্রিটিশ গর্ভনরের নামেই একদা গড়ে উঠেছিল ঐতিহ্যবাহী ক্যানিং শহর। কিন্তু স্বাধীনতার পর লর্ড ক্যানিংকে আর বোধ হয় কেউ মনে রাখেননি। ক্যানিং শহরে তাঁর বাড়িটিই যে নষ্ট হতে বসেছিল।

একাংশের অভিযোগ, সরকারি অবহেলায় এতদিন সে বাড়ির কোনও সংস্কার হয়নি। যদিও ২০১৮ সালে লর্ড ক্যানিংয়ের বাড়িটিকে ঐতিহ্যশালী ভবনের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবু, সংস্কারের কোনও চেষ্টা দেখা যায়নি।

তবে আশার কথা হল এই যে, চলতি বছরের প্রথম থেকেই শুরু হয়েছে ভবন সংস্কারের কাজ। সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছে ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাস।

উল্লেখ্য, প্রায় ১৭০ বছর আগে সুন্দরবনের খুব কাছেই মাতলা নদীর তীরে অবস্থিত এই বিলাসবহুল বাড়িটিতে দিন কাটিয়েছিলেন এক ব্রিটিশ দম্পতি। ভদ্রমহিলা ছিলেন তৎকালীন ইংরেজ আমলের বিখ্যাত এক চিত্রশিল্পী। তাঁরই শিল্পকলার যাদু আজও শোভা পায় সুদূর ইংল্যান্ড-সহ দেশ বিদেশের বিভিন্ন যাদুঘরে।

দেখুন ভিডিও।

তৎকালীন সময়ে সুন্দরবনের নদীনালা, প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য সহ গ্রাম বাংলার ছবি এঁকে তাঁর এক বিখ্যাত বান্ধবীকে চিঠি পাঠাতেন। আর সেই বান্ধবী ছিলেন খোদ রাণি ভিক্টোরিয়া। আর সেই চিত্রশিল্পী ভদ্রমহিলার শ্বশুর ছিলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী আর তাঁর স্বামী ছিলেন লর্ড ক্যানিং।

তৎকালীন সময়ে তাঁর সেই সাধের ঐতিহ্যবাহী বিলাসবহুল বাড়িটি সংস্কারের অভাবে এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে! বাড়িটি থেকে হারিয়ে গিয়েছে লর্ড ক্যানিংয়ের সমস্ত স্মৃতিচিহ্ন। সামনে ছিল সিংহদুয়ার, কেয়ারি ফুলের বাগান আর সবুজ ঘাসের লন। বিভিন্ন সময়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্যানিংয়ের অন্যান্য বাড়িগুলি ভেঙে পড়লেও, আজ অবধি ব্রিটিশ আমলের সর্বশেষ স্মৃতি এই বাড়িটি মরচে ধরে ধসে গেলেও ভেঙে পড়েনি।

১৯৬২ সালে ক্যানিংয়ের জয়দেব ঘোষ মুম্বাইয়ের ‘জে এম দাতিয়াল-আরসি কুপার কোম্পানি’র কাছ থেকে বাড়িটি কিনে নেন। ঘোষ দম্পতির ছেলে বরুণ ঘোষ বিশাল এই বাড়িটি তেমনভাবে রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচর্যা করতে পারেননি। জানা যায়, এক সময় এই বিলাসবহুল বাড়িটি হোটেল তৈরী করার জন্য কিনতে চেয়ে প্রস্তাব দিয়েছিলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। কিন্তু জয়দেব বাবু বিক্রি করেননি।

অবশ্য পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশন ২০০১ এর আইন অনুযায়ী সরকার বাড়িটিকে ২০১৮ সালে হেরিটেজ বিল্ডিং ঘোষণা করেন। একে ঐতিহ্যশালী ভবনের স্বীকৃতি দেয়। সম্প্রতি শুরু হয়েছে বাড়িটির সংস্কারের কাজ। উল্লেখ্য, সুন্দরবনে বেড়াতে আসা দেশবিদেশের পর্যটকরা আজও ঐতিহাসিক এই ভঙ্গুর বাড়িটি দর্শন করতে আসেন। বাড়িটি সম্পূর্ণ সংস্কার হয়ে গেলে দেশবিদেশের পর্যটকদের আনাগোনা আরও বাড়বে বলেই মত স্থানীয়দের।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.