পঞ্জশিরে তালিবানকে সাহায্য করার অভিযোগ উড়িয়ে দিল পাকিস্তান

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ‘অসাধু উদ্দেশ্য নিয়ে প্রচার করা হচ্ছে আমাদের বিরুদ্ধে।’ পঞ্জশিরে (Panjshir) তালিবানকে সাহায্য করার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে এমনই মন্তব্য করল পাকিস্তান। সেদেশের বিদেশমন্ত্রী আসিম ইফতিকার বিবৃতি দিয়ে বলেন, “আমরা তালিবানকে সাহায্য করার অভিযোগ অস্বীকার করছি। আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করার জন্য ওই অভিযোগ করা হয়েছে।” পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রীর দাবি, তাঁরা চান আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসুক।

গত ১৫ অগাস্ট তালিবান কাবুল দখল করে। কিন্তু তারপরেও দীর্ঘদিন তারা পঞ্জশির উপত্যকা দখল করতে পারেনি। তালিবানের সঙ্গে সেখানে প্রতিরোধ বাহিনীর তীব্র লড়াই হয়। এই সময় একটি সংবাদ সংস্থা মার্কিন সেন্ট্রাল কম্যান্ডকে উদ্ধৃত করে জানায়, পঞ্জশিরে তালিবানকে সাহায্য করতে গিয়েছে ২৭ টি পাকিস্তানি হেলিকপ্টার। তাতে আছে পাকিস্তানের স্পেশাল ফোর্সের যোদ্ধারা। পঞ্জশির তালিবানের ‘দখলে আসার’ একদিন আগেই কাবুলে যান পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের প্রধান ফৈয়াজ হামিদ। তিনি তালিবান নেতা মোল্লা আবদুল গনি বরাদরের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে তাঁরা দাবি করেন, শরণার্থী সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু অনেকের সন্দেহ, পঞ্জশিরের যুদ্ধ নিয়েও তাঁরা কথা বলেছেন।

তালিবান পঞ্জশির দখল করতে পেরেছে বলে বিশ্বাস করছেন না অনেকেই। ফরাসি সাংবাদিক বার্নার্ড হেনরি লেভি ট্যুইট করে বলেন,  তিনি প্রতিরোধ বাহিনীর নেতা আহমেদ মাসুদের সঙ্গে কথা বলেছেন। মাসুদও পঞ্জশিরে থাকার খবর নিশ্চিত করেছেন। সন্ত্রাসবাদী তালিবান পঞ্জশিরের রাজধানীতে নিজেদের পতাকা তুলে প্রদেশ দখলের দাবি করলেও ন্যাশনাল  রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেরও দাবি, তাদের  গেরিলারাও প্রদেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলি দখল করে আছে।

ফরাসি সাংবাদিক বলেছেন, আহমেদ মাসুদের সঙ্গে কথা হয়েছে আমার। তালিবান পঞ্জশির উপত্যকা নিয়ন্ত্রণ করছে, পাহাড় নয়।  সংগঠিত প্রতিরোধ হচ্ছে। তাদের মনোবল চাঙ্গা। আহমেদ শাহ মাসুদের ছেলে পঞ্জশিরের  কোথাও একটা  আছেন। তাঁর মধ্যে মুক্ত আফগানিস্তানের চেতনার শিখা জ্বলছে।  আফগান ‘কেয়ারটেকার’ প্রেসিডেন্ট আমরুল্লা সালে তাজিকিস্তান পালিয়েছেন বলে আগেই দাবি করেন তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ।

মাসুদের বাবা আহমেদ শাহ মাসুদ তালিবানের বিরুদ্ধে অতীতে বীরের মতো লড়াই করেছিলেন। ২০০১ এর ৯ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ আমেরিকার বুকে ৯/১১র বেনজির সন্ত্রাসবাদী হামলার দু’দিন আগে মানববোমা হামলায় তিনি নিহত হন। আফগান প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি তালিবান কাবুলে ঢুকতেই সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে দেশ ছেড়ে পালান।  কিন্তু বাবার লড়াকু ঐতিহ্য বজায় রেখে প্রতিরোধ বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে তালিবানের সঙ্গে সংঘর্ষ চালিয়ে যান মাসুদ।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.