মমতার নিশানায় মহুয়া, ‘সবাইকে নিয়ে চলতে হবে’, সাবধানবাণী দিদির   

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাস দেড়েক আগেই তাঁকে বড় দায়িত্ব দিয়েছিল তৃণমূল। গোয়ার ইনচার্জ করে পাঠানো হয়েছিল পশ্চিম উপকূলের রাজ্যটিতে। কিন্তু সেই মহুয়া মৈত্রকেই মঞ্চে বসিয়ে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছিল প্রশাসনিক সভা। কিন্তু সেই সভাতেই যেন মুখ্যমন্ত্রী থেকে তৃণমূলনেত্রীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন মমতা।

এদিন মমতা এক এক করে সমস্ত পুরসভার প্রশাসকদের সঙ্গে এক এক করে কথা বলছিলেন। এই করতে করতেই নম্বর আসে কৃষ্ণনগরের। তিনি উঠে দাঁড়াতেই মমতা হঠাৎ মঞ্চের পিছনের সারিতে বসে থাকা মহুয়া মৈত্রকে উদ্দেশ করে বলতে শুরু করেন, “শোনো মহুয়া, এখানে আমি একটা স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই। কে কার পক্ষে বিপক্ষে দেখার আমার দরকার নেই। আমি সাজিয়ে গুছিয়ে কিছু লোক পাঠিয়ে ইউটিউবে অথবা ডিজিটালে অথবা পেপারে দিয়ে দিলাম, এই রাজনীতি একদিন চলতে পারে চিরদিন নয়। একই লোক চিরদিন এক জায়গায় থাকবে এটাও মেনে নেওয়াটা ঠিক নয়। যখন ভোট হবে পার্টি ঠিক করবে কে লড়বে, কে লড়বে না। এখানে মতপার্থক্যের কোনও জায়গা নেই। সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এটা আমি বলে গেলাম।”

এর মাঝেই দিদি দাঁড় করান জয়ন্ত সাহাকে। তিনি যুব নেতা। তাঁকে বলেন, কী গণ্ডোল হয়েছিল? তিনি জবাবে বলেন, দিদি একটা অন্তর্ঘাত হয়েছিল! তখনই ফের মমতা বলেন, আমি জানি। ক্রস চেক করিয়েছিলাম পুলিশকে দিয়ে। ওই ঘটনায় অন্য একজন যুক্ত। বুঝিয়ে দিতে চান, জয়ন্তকে অপরাধী বানাচ্ছে সেটা একটা ষড়যন্ত্র। এর পিছনে অন্য খেলা রয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট কোনও ঘটনার কথা উল্লেখ করেননি মমতা।

এমনিতে নদিয়ার তৃণমূল গোষ্ঠী কোন্দলে বিদীর্ণ। এর আগে প্রয়াত দুই নেতা গৌরীশঙ্গর দত্ত আর অজয় দে-র সংঘাত ছিল চরমে। কংগ্রেস থেকে জিতে তৃণমূলে যোগ দেওয়া অরিন্দম ভট্টাচার্যকে নিয়েও শান্তিপুরের তৃণমূলের অশান্তি কম ছিল না। একুশের ভোটের আগে অবশ্য অরিন্দম বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। এখন আবার মহুয়া বনাম শংকর সিংয়ের কোন্দল সম্পর্কে নানান কথা চালু রয়েছে নদিয়া তৃণমূলে। তবে তা যে সবটাই রটনা নয়, তার যে বাস্তবতা রয়েছে এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা নিজেই। সাবধান করে দিয়েছেন, দলের মধ্যে মতবিরোধ রাখা যাবে না।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.