নির্মলার উদ্দেশে মমতা: ‘বাংলায় রাস্তা বানানোর দরকার নেই, আমরা বানিয়ে নেব… হামাগুড়ি শেখাচ্ছো!’

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার সাধারণ বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ঘোষণা করেছেন, বাংলায় ৬৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ স্টেট হাইওয়ে নির্মাণের জন্য ২৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি জাতীয় সড়কের মেরামত করা হবে বলে জানিয়ে বাজেট ঘোষণায় জানিয়েছেন নির্মলা।

কিন্তু ভোটের আগে সেই ঘোষণা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য মূলত দুটো। এক, কলকাতা থেকে শিলিগুড়ির রাস্তার কেন্দ্র আবার কী করবে, রাজ্য সব করে দিয়েছে। দুই, বাংলায় কেন্দ্রকে রাস্তা বানাতে হবে না। ওই টাকা কৃষকদের দিয়ে দিক। তাঁর সরকার রাস্তা বানিয়ে নেবে।

এদিন উত্তরবঙ্গে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়েই বাজেটের তীব্র সমালোচনা করেন। প্রথমেই সড়ক নির্মাণের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন মমতা।

তাঁর কথায়, “কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি তোমরা আবার কী করবে! আমরা তো করে দিয়েছি। ইসলামপুরে জট ছাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কৃষ্ণনগর, রাণাঘাটের কাজ দেরি করেছ তোমরা। সবটাই রেডি আছে। নতুন করে শিলিগুড়ি পর্যন্ত কী করবে? হামাগুড়ি শেখাচ্ছো!”

মমতা জানান, দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত আরও দুটি রাস্তা হচ্ছে। একটি পাশকুড়া দাসপুর থেকে বর্ধমান হয়ে শিলিগুড়ি পর্যন্ত এবং আরও একটি রাস্তা।

কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ দফতরের এক অফিসার অবশ্য জানিয়েছেন, কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণে রাজ্য সরকারের ভূমিকা ছিল কম। বরং জবরদখলের জন্য বারবার রাস্তার কাজ আটকে গিয়েছে। তা তুলে দিতে রাজ্য গোড়ায় বিশেষ সাহায্য করেনি। অহেতুক দেরি করেছে। সে ব্যাপারে নিতিন গডকড়ী বহুবার রাজ্য সরকারকে চিঠি লিখেছিলেন। কাজে দীর্ঘসূত্রিতার জন্য দায়ী ছিল রাজ্যই।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও বলেন, “বলছে, বাংলায় নাকি রাস্তা বানাবে। বাংলায় রাস্তা বানানোর দরকার নেই। যাও এই টাকাটা কৃষকদের গিয়ে দাও।” তাঁর কথায়, “বাংলায় আমরা রাস্তা অনেক বানিয়েছে। বাকি রাস্তা আমরাই বানিয়ে নেব। গ্রামের রাস্তাও বানিয়ে নেব।”

বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম জমানায় প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক তৈরি হয়েছিল। তবে ঘটনা হলে সেই রাস্তাগুলিও কেন্দ্রের প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার আওতায় ও অর্থানুকূল্যে তৈরি হয়। সে সময়ে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী ছিলেন জয়রাম রমেশ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইউপিএ থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলেও বরাদ্দে কোনও কার্পণ্য করেনি জয়রামের মন্ত্রক। বরং পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিনি সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলতেন।

পরে রাজ্যগুলির দাবির প্রেক্ষিতেই গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের জন্য কেন্দ্র বরাদ্দ কমিয়ে ৬০ শতাংশ করে। কারণ, রাজ্যগুলি দাবি করেছিল, প্রকল্প খাতে টাকা না দিয়ে রাজ্যকে নগদে বেশি টাকা দেওয়া হোক। ফলে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ খাতে রাজ্যগুলি ৪০ ম্যাচিং গ্রান্ট দিতে হয়। সেই সঙ্গে প্রায় ১০ শতাংশ প্রশাসনিক খরচ রয়েছে। কিন্তু রাজ্যের আর্থিক সংকট সুবিদিত। অর্থ কমিশনের সুপারিশ বাবদ বেশি নগদ পেলেও সেই টাকাও আশানুরূপ ভাবে সড়ক নির্মাণ খাতে খরচ করা হয়নি। তাই দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথম মেয়াদের মতো রাস্তা তৈরির কাজ হয়নি। এমনকি পুরনো রাস্তার মেরামতও তেমন হয়নি। এখন ভোটের আগে অবশ্য পথশ্রী অভিযানের নামে ভাঙা রাস্তা সারাতে নেমেছে সরকার।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.