‘ম্যান মেড’ ভূমিকম্পে রাতের ঘুম উড়েছে উত্তর কলকাতায়, ফাটল বহু বাড়িতে

0

 

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভূমিকম্প নাকি! রাত হলেই থরথর করে কাঁপছে গোটা বাড়ি! এই অভিযোগ উত্তর কলকাতার বিভিন্ন এলাকার মানুষের। ভয়ে রাতের ঘুম উড়েছে অনেকের। বহু বাড়ির বারান্দা, দেওয়ালে ফাটল। দিন দিন কাঁপুনি বাড়ছে। কোনদিন পুরো বাড়িই না হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে! এই আশঙ্কাও অনেকের।

মঙ্গলবার এই ‘দুয়ারে ভূমিকম্পে’র কারণ খুঁজতে বেরিয়েছিল দ্য ওয়াল। খোঁজ-খবর নিয়ে যা জানা গেল-

গিরিশ পার্কের বিবেকানন্দ রোড, মহাত্মা গান্ধী রোড, ভূপেন বোস অ্যাভেনিউ, সেন্ট্রাল অ্যাভেনিউ, বিধান সরণির একাধিক বাড়িতে ফাটল। রাত বাড়তেই একটু পরপরই কাঁপছে একাধিক বাড়ি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেআইনিভাবে ওভারলোডেড ট্রাক যাচ্ছে ওইসব রাস্তা দিয়ে। রাস্তা অসমান। যে কারণে কাঁপছে বাড়ি। পুরোনো বাড়ি বেশি কাঁপছে। নতুন বাড়িও কাঁপিয়ে দিয়ে যাচ্ছে রাতের পণ্যবাহী ট্রাক। এখন রাত হলেই এই ম্যান মেড ভূমিকম্পে আতঙ্কের প্রহর শুরু হয় বাসিন্দাদের।

অভিযোগ, পুরনো কলকাতার ওইসব এলাকায় রাত হলেই দাপাদাপি শুরু হয় পণ্যবাহী গাড়ির। ওভারলোডিংয় বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি বহুবার দেওয়া সত্বেও তা কার্যকর হয়নি। শ্যামবাজার, বউবাজার থেকে গণেশ টকিজ, ট্রাফিক পুলিশের পেট্রোলিং থাকতেও আইনের ‘ফাঁক’ গলে ওইসব ভারী গাড়ি কাঁপিয়ে দিয়ে যাচ্ছে বাড়ি। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে পুরোনো বাড়িগুলি।

বড়বাজারের একটি পুরনো বাড়ির বাসিন্দা রাহুল সোনকর বললেন, ‘রাতে খুব ভয় লাগে। এই রাস্তা দিয়ে দশ চাকা, কুড়ি চাকার লরি যায়। প্রথম প্রথম রাতে ঘুম আসত না। এখন অভ্যেস হয়ে গেছে।’

ওই বাড়িরই মালিক সৌমেন মল্লিক বললেন, ‘সরকারের কাছে আমার আবেদন, ওভারলোড লরি বন্ধ করুন। এই বাড়ি ১২০ বছরের পুরোনো। সংস্কারের কাজ চলছে। প্রায় ১০০ জন মানুষ বসবাস করেন। যেভাবে কাঁপছে যেকোনও দিন ভেঙে পড়তে পারে।’

সরকারি তরফে বলা হয়েছিল ডানকুনি এবং ধুলাগড়ে ভারী পণ্যবাহী গাড়ি এসে থামবে। সেখান থেকে ছোট ছোট গাড়িতে পণ্য ঢুকবে শহরের বিভিন্ন বাজারে। কলকাতা পুরসভার মেয়র ও পরিবহণমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও ওভারলোডিংয়ের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু কোনও ব্যবস্থাই নাকি নেওয়া হয়নি। এই অভিযোগ বিবেকানন্দ রোডের কৃষ্ণদাস দে-র। বললেন, ‘রাতে ভয়ে ঘুম ভেঙে যায়। ধরফরিয়ে উঠে পড়ি। বিধায়ক ও মন্ত্রী শশী পাঁজাকে মাস পিটিশন জমা দিয়েছিলাম। অসমান রাস্তা ঠিক করা হয়েছে। কিন্তু তাতে কাজ হচ্ছে না। প্রতিরাতেই ভূমিকম্পের অনুভূতি হয়। আমরা ভালো নেই। খুব ভয় হয়।’

৬৯ এ বিবেকানন্দ রোডের দেবেন্দ্রনাথ পাল নিজের বাড়ির সাম্প্রতিক ফাটল ঘুরে ঘুরে দেখালেন। সিঁড়ি ও দেওয়ালে বিভিন্ন ফাটল। বললেন, ‘রাস্তা অসমান। তারপর অতিরিক্ত মালপত্র নিয়ে রাতে গাড়ি ঢুকছে রাস্তায়। যেকারনেই কাঁপছে বাড়ি। একদম ভূমিকম্পের মতো।’

পাশেরবাড়ির স্বপ্না ধর বললেন, ‘ দিনের বেলায় অতটা কাঁপছে না। রাত এগারোটার পর ভূমিকম্পের মতো কেঁপে কেঁপে উঠছে বাড়ি। বাড়িতে ফাটল হচ্ছে।

বিষয়টিতে কলকাতার বাড়িওয়ালা সংগঠনের সম্পাদক সুকুমার রক্ষিত বললেন, ‘বাড়ির বারান্দা খসে পড়া বা কাঁপার অন্যতম কারণ ওভারলোডিং। যা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। পাশাপাশি শহরে জল জমার জন্য পুরোনো বাড়ির ভিত কমজোর হচ্ছে। সেইসঙ্গে রয়েছে অবৈজ্ঞানিক বৃক্ষরোপণ। ভুল জায়গায় বসানো গাছের শিকড় বাড়ির ভিত কমজোর করছে।’

রাজ্যের ট্রাক মালিক সংগঠনের সম্পাদক সজল ঘোষ জানালেন, ‘বহুবার এবিষয়ে পরিবহনমন্ত্রীকে জানিয়েছি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। কিন্তু ওভারলোডিংয়ের কোনও সুরাহা হয়নি। আমরাও ক্ষতিগ্রস্থ। বিষয়টি নিয়ে আমরা আবার প্রশাসনকে জানাবো।’

ক্ষতিগ্রস্থরা বহুবার কলকাতা পুরসভার স্থানীয় প্রতিনিধিকে বিষয়টি জানিয়েছেন। এলাকার বিধায়ক শশী পাঁজাকেও সবাই মিলে আবেদন করেছেন। বিষয়টিতে বিধায়ক ও মন্ত্রী শশী পাঁজাকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.